ইফতারে শক্তি জোগাবে ‍‍‘তালবিনা‍‍’

রমজানে শারীরিক-মানসিক সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দেওয়া হয়। তেমনি একটি সুন্নাহ খাবার নিয়ে জানাব আজকের আয়োজনে। এটি একটি সুন্নাহ খাবার। যা এন্টিডিপ্রেসেন্ট হিসাবে কাজ করে। আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। খাবারটির নাম হলো ‘তালবিনা।’

ইফতারের টেবিলে এই খাবারটি আমাদের সারাদিনের পুষ্টি ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে। খালি পেটে এই খাবারটি খেলে উপকারও দ্বিগুণ পাওয়া যায়।

‘তালবিনা’ আরবি শব্দ ‘লাবান’ (টকদই) থেকে এসেছে। কারণ রান্নার পরে এটি দইয়ের মতো ঘন হয়। নরম ও দেখতে দইয়ের মতো সাদা। এই খাবারটি স্ট্রেস, ডিপ্রেশন কমায়। এটি বেশি ব্যয়বহুল নয়। এমনকি কোনো পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাইতো তালবিনা হতে পারে ইফতারের টেবিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলুন দেখে আসি কীভাবে বানানো হয় ‘তালবিনা’।

যা যা লাগবে

বার্লি- ১০০ গ্রাম
দুধ- এক লিটার
এলাচ গুড়া -আধা চা চামচ
কাজু বাদাম- ১ টেবিল চামচ কুচি
পিস্তা বাদাম-১ টেবিল চামচ কুচি
খেজুর- ৮-১০ টি।

যেভাবে বানাবেন

বার্লি ভালো করে ধুয়ে ৪ ঘণ্টা বা পুরো রাত ভিজিয়ে রাখুন। চুলায় একটি পাত্র দিয়ে তাতে দুধ নিয়ে ফুটিয়ে নিন। ভেজানো বার্লি ছেকে তুলে দুধে দিয়ে দিন। ৮-১০ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করুন। এ সময় পাত্রটি সামান্য ফাঁকা রেখে ঢেকে দিন।

এবার বীজ ছাড়িয়ে ৮-১০ কুঁচি করে কাটা খেজুর, দুধ ও বার্লির মিশ্রনে দিয়ে দিন। আবারো অল্প আঁচে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট রান্না করুন। এ সময় পাত্রটি সামান্য ফাঁকা রেখে ঢেকে দিন।

এবার দুধে এলাচি গুড়া আধা চা চামচ মিশিয়ে দিয়ে ৮-১০ মিনিট রান্না করুন।

এবার কাজু ও পিস্তা বাদাম কুঁচি দিয়ে দিন। ২ মিনিট ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে নিন। এরপর পরিবেশন করুন।

কেন খাবেন তালবিনা?

রাসুলুল্লাহ সাঃ এর পছন্দের খাবার এটি। তালবিনা অসুস্থদের জন্য় ঔষধ হিসাবে কাজ করে।

শরীরে শক্তি জোগায়।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে।

কলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ব্লাড গ্লুকোজ কমাতে সাহায্য করে।

পেটের জ্বালা পোড়া কমিয়ে দেয়।

সহজে হজম হয়।

দেহের ঘাম কমায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *