কান ধরে ওঠবস করানো কর্মকর্তার সদুত্তর নেই

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চিনেটোলা বাজারে বয়স্ক দুই ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার একটি ছবি নিয়ে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ছবিতে দেখা যায় একজন সহকারী কমিশনার বয়স্ক ২ ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন এবং নিজেই ওই ঘটনার ছবি ধারন করছেন। প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিযেছে, এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

৩৪তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তার নাম সাইয়েমা হোসেন। বিসিএস পরীক্ষায় ৪র্থ স্থান অধিকারী এই কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে পাশ করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসাবে যোগদানের পূর্বে তিনি কিছু দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘটনার বিষয়ে সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলাচল সীমিত রাখার সরকারি দায়িত্ব পালন কালে তিনি দুই বৃদ্ধ ভ্যানচালককে কান ধরে ওঠবস করান। ভাইরাল হওয়া ছবিটির পাশাপাশি তার অভিযানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি কাঁচাবাজারে ঢুকে অন্য আরেক ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন।

যশোরের জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ জানান, মানুষ যেন ঘরে থাকে, সে ব্যাপারে উৎসাহিত করার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো নির্দেশ প্রশাসন দেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, এই কাণ্ড জানার পর রাতেই তার কাছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারণ জানতে চান। জবাবে তিনি এককসময় একেক কথা বলছেন। তিনি জানান, তাকে দেখে ওই বৃদ্ধরা ভয়ে কান ধরে ফেলেন। আবার বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বাজারে এত মানুষ দেখে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। তবে কেন ছবি তুলেছিলেন, এর কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলাচল সীমিত রাখার সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাস্তায় লোকজনকে কান ধরে ওঠবস করানো, লাঠিপেটার মতো নানা রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশ সদস্যদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনয়ী, সহিষ্ণু ও পেশাদার আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *