গওহর খানের সৌন্দর্য-রহস্য

গওহর খান। বলিউডের প্রতিভাবান এই অভিনেত্রী তাঁর চমৎকার ভঙ্গিমা আর কাজের প্রতি অনুরাগ ও নিয়মানুবর্তিতার কারণে মন জয় করেছেন সবার। এর জন্য প্রচুর সময় ও শ্রম দিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্র ও ছোট পর্দায় অভিনয় ছাড়াও তিনি বলিউড মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র ‘জানগুরা’তে একটি চরিত্রে অভিনয় করেন।

এ ছাড়া তিনি গানের প্রতিযোগিতামূলক রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান র স্টার (২০১৪) ইয়ো ইয়ো হানি সিংয়ে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। তবে হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ডায়েট চার্টের ব্যাপারে বেশ সচেতন।

তাঁর সুন্দর ত্বকের রহস্য হলো, তিনি প্রচুর পানি পান করেন। একই সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল খেয়ে থাকেন। এ ছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে তিনি সবুজ জুস ও অ্যালকালাইন-জাতীয় খাবার প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকেন।

তাঁর মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর জীবনে নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পরও তাঁদের দর্শকের মনোরঞ্জন করতে হয়। তাই সৌন্দর্য ধরে রাখা ও নিজেকে ফিট রাখা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে বয়স, ওজন, শরীরের রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজের জন্য উপযুক্ত ডায়েট প্ল্যান নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রচুর পানি পান করে থাকেন, যা তাকে সারা দিন কর্মক্ষম এবং সুন্দর থাকতে সাহায্য করে। এরপর নাশতায় তিনি যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকেন। নাশতায় তিনি ডিম, ব্ল্যাক টি ও মসলা-চা খেতে খুব ভালোবাসেন। তিনি নিজের ডায়েট চার্টকেও মাঝেমধ্যে ফাঁকি দিয়ে থাকেন।

তবে শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনে ওয়ার্কআউট কমবেশি করে ভারসাম্য বজায় রাখাটা খুব জরুরি, যা তিনি সব সময় করে থাকেন। ডাল ও সবজি তাঁর খুবই পছন্দের খাবার। দুপুরে তিনি হালকা ধরনের খাবার খেতে ভালোবাসেন। বিভিন্ন রকমের সবজি, বিশেষ করে সবুজ শাকসবজি খেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তা ছাড়া তিনি শস্যজাতীয় খাবার ও পনির খেতে খুব ভালোবাসেন।

বিকেলে হালকা স্ন্যাক্স খেতে পছন্দ করেন। তিনি সাধারণত রাত আটটার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নেন। তবে এর ব্যতিক্রমও যে একেবারেই ঘটে না, তা নয়। অন্য সবার মতো তিনিও কখনো কখনো নিয়ম ভেঙে একটু দেরিতে রাতের খাবার খান, তবে খুব বাড়াবাড়ি রকমের অনিয়ম তিনি করেন না।

দেরি হলেও সেটি সাড়ে ৯টা অতিক্রম করে না। রাতে খাবারের মেন্যুতে স্যুপ তার চাই-ই। সঙ্গে সেদ্ধ বা গ্রিল্ড কিছু থাকতে হবে। তিনি হার্ট-ফ্রেন্ডলি খাবার খেতে পছন্দ করেন। অল্প মসলায় রান্না খাবারে স্বাদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে অতিরিক্ত মেদও জমতে পারে না। তা ছাড়া তিনি খাবারে চিনি ও লবণ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

নিয়মমাফিক খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, ঘুম ও বিশ্রাম খুবই জরুরি। তাই তিনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত ওয়ার্কআউট করতে ভোলেন না। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত জিম এবং হাঁটার মাধ্যমে নিজেকে সতেজ ও সুন্দর রাখেন।

লেখা-সৌরীন রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *