নতুন করে অনুদানের জন্য জমা পড়ল আগে অনুদান পাওয়া ছবির গল্প

সিনেমাশিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রতি বছর সরকার বেশ কয়েকটি ছবি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অর্থ অনুদান দিয়ে থাকে। সেই প্রক্রিয়ায় ২০১২ সালে ‘কাকতাড়ুয়া’ নামে একটি ছবি অনুদান পায়। এটি দেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ফারুক হোসেন।

নির্মাতার দাবি, লেখক তার গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মাণের জন্য তাকে অনুমতিও দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিশুতোষ গল্পের ছবি হিসাবেই ‘কাকতাড়ুয়া’ অনুদান পেয়েছিল। কিন্তু প্রায় ১০ বছর পার হয়ে গেলেও এ ছবিটি আজও মুক্তি পায়নি। বরং একই গল্প নিয়ে আবারও ছবি নির্মাণের লক্ষ্যে চলতি অর্থবছর (২০২১-২২) অনুদানের জন্য ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তি গল্প জমা দিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়টি গল্পের লেখক সেলিনা হোসেনও স্বীকার করেছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, ‘আগের নির্মাতা ছবিটি নির্মাণ করেছেন কিনা আমি জানি না। বিষয়টি আমি একেবারেই ভুলে গেছি। এটি একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র হিসাবে নির্মাণের জন্য এর আগে অনুদানের জন্য জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী খবর আর জানি না। অনুদান পেয়েছে কিনা বা নির্মিত হয়েছে কিনা, কোনো কিছুই আমাকে জানানো হয়নি। আমিও একেবারেই ভুলে গেছি। তবে কিছুদিন আগে একই গল্প হারুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তি সরকারি অনুদানের জন্য আবার জমা দিয়েছেন, এটা জানি।’ এক গল্প দু’জনকে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া যায় কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আসলে বিষয়টি আমি সত্যিই ভুলে গেছি। যদি আগেরজন আমাকে ইনফর্ম করতেন তাহলে এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতো না।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালে অনুদানপ্রাপ্ত ‘কাকতাড়ুয়া’ ছবির কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। যদিও নির্মাতা দাবি করছেন তিনি কাজ পুরোপুরি শেষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছবিটি আরও তিন বছর আগে শেষ হয়েছে। তবে মুক্তি না দিতে পারার কারণ হলো, কাজ শেষ করার পরপর আমার স্ত্রী মারা যায়। এর কিছুদিন পর আমার মা মারা যান। তারপর আবার আমার হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছবি নির্মাণের জন্য আমি পেয়েছিলাম ২৪ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে আমি নিজেও আরও ত্রিশ লাখ টাকা এতে বিনিয়োগ করি। কারণ এটি একটি বিগ অ্যারেঞ্জমেন্টের ছবি। আমি সেন্সরের জন্য প্রিন্ট করে রেখেছি, সাবটাইটেলও করা। কিন্তু এফডিসি একটি মোটা অঙ্কের বিল পায় বিধায় এফডিসি থেকে আমাকে সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য আমি সিনেমাটি মুক্তি দিতে পারছি না। তবে আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বা মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করব আমাকে যেন এফডিসির বিল মাফ করে দেওয়া হয়। তাহলে ছবিটি আমি মুক্তি দিতে পারব।’

তবে যারা ফারুক হোসেনের সঙ্গে ছবিতে কাজ করেছেন তারা বলছেন ভিন্ন কথা। শিল্পী কলাকুশলীদের অভিযোগ, তারা তেমন কোনো পারিশ্রমিকই পাননি। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা মুহিতের বাবা মাজেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। পরিচালক তখন বলেছিলেন, আমি দেখব। এরপর তো ছবিই শেষ। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে আমার ছেলে তাতে অভিনয় করেছিল সেটি স্বপ্নই রয়ে গেল।’ একই ছবিতে স্থির চিত্রগ্রাহক হিসাবে কাজ করেছেন আবু শহীদ। তিনি বলেন, ‘আমাকে যে পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল তার চার ভাগের এক ভাগ দেওয়া হয়েছে। বাকিটা আর পাইনি।’

ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন জামিলুর রহমান শাখা, শাহনূর, ইলোরা গহর, রেবেকা, নাজমুল, আহমেদ শরীফ প্রমুখ। একই গল্প দ্বিতীয়বার অনুদানের জন্য জমা দেওয়ার কথা শুনে তারা সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ, অনুদানের ঘোষণা দেওয়ার পর গেজেটে প্রকাশিত একটি ছবির কথা পরবর্তী সময়ে যারা অনুদান চাইবেন নিশ্চয়ই তারা জানবেন কিংবা খোঁজ নেবেন। অথবা লেখকেরও জানার কথা। তবে লেখক যেহেতু ভুলে গেছেন বলে স্বীকার করেছেন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সময়ে দুটি ঘটনার জন্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, এমনটাই মনে করছেন অনুদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বিচারক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেছেন, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান দেওয়ার পর মন্ত্রণালয়েরই নজরদারিতে থাকা উচিত যাদের অনুদান দেওয়া হলো তারা সঠিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবিগুলো নির্মাণ করছে কিনা। যদিও এ ধরনের কয়েকটি ঘটনায় ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তথাপি আরও সতর্ক থাকা উচিত বলেই মনে করছেন তিনি।

Next Post

‘মসজিদে তারাবিসহ সব নামাজে মুসল্লি সর্বোচ্চ ২০ জন অংশ নিতে পারবেন’

সোম এপ্রি ১২ , ২০২১
মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি এবং পবিত্র রমজানে তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদিমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। ১৪ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সোমবার (১২ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে ৫টি নির্দেশনা […]
FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail