মঙ্গলগ্রহে উড়ছে নাসার ড্রোন

মঙ্গলপৃষ্ঠে মহাকাশচারী রোভার নভোযান পারসিভিয়ারেন্সের সফল অবতরণের পর, প্রথমবার ড্রোন উড়িয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা।

বিবিসি জানায়, সোমবার রাতে মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠ থেকে সফলভাবে উড়তে সক্ষম হয় ইনজেনুয়িটি নামের ছোট্ট ড্রোনটি। মঙ্গলের আকাশে এক মিনিটের কম সময়ে ওড়ার পর সফলভাবে অবতরণ করে ইনজেনুয়িটি।

পৃথিবীর বাইরে এই প্রথম কোন স্বয়ংক্রিয় ড্রোন উড়াতে পেরে উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা। উড্ডয়নের পর মঙ্গলগ্রহ থেকে উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীতে বার্তা ও ছবি পাঠায় এই ড্রোনটি।

এক বিবৃতিতে নাসা জানায়, এই সাফল্য আগামীতে মহাকাশে বিমান ওড়ানোর পথও প্রশস্ত করেছে। হেলিকপ্টার সদৃশ মাত্র এক দশমিক আট কেজি ওজনের ইনজেনুয়িটিকে ফেব্রুয়ারিতে মহাকাশচারী রোবট পারসিভিয়ারেন্সের সঙ্গেই পাঠানো হয়।

মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে ছবি ও অন্যান্য তথ্য পাঠাতে সাহায্য করবে ইনজেনুয়িটি। সামনের দিনগুলোতে আরও চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে এই ড্রোনের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ড্রোনটিকে পরীক্ষা করতে আরও উঁচুতে ও দূরে পাঠাতে চান তারা।

ফেব্রুয়ারি মাসে মঙ্গল পৃষ্ঠে জেযেরো গহ্বরে অবতরণ করে রোভার রোবট পারসিভেয়ারেন্স। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন বছর আগে মঙ্গলগ্রহের এই অংশে পানির অস্তিত্ব ছিল এবং অণুজীব তথা প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল।

মঙ্গলে পৌঁছানোর পর এর প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে শুঁকিয়ে যাওয়া একটি লেক থেকে শিলাপাথর, মাটি সংগ্রহের পাশাপাশি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুজীবের উপস্থিতির খোঁজ শুরু করে পারসিভিয়ারেন্স। সৌরবিদ্যুৎচালিত ড্রোন ইনজেনুয়িটি পারসিভিয়ারেন্সকে প্রাণের অস্তিত্বের খুঁজতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *