লকডাউনে পুঁজিবাজারে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে আজ সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন দিয়েছে সরকার। এতে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বিক্রি বাড়িয়ে দেন। ফলে অনেক কোম্পানির ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সূচকের ওপরে। আর লেনদেন শেষে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গত এক বছরের মধ্যে গতকালই সবচেয়ে বড় পতন হলো।
এদিকে লকডাউনের কারণে ব্যাংকে লেনদেনের সময় কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সময়ও কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অর্থাত্ লেনদেন হবে মাত্র দুই ঘণ্টা। আর ব্যাংকের লেনদেন হবে আরো আধাঘণ্টা বেশি হবে। ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গ্রাহকরা ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই দাম কমেছে। দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র সাতটি প্রতিষ্ঠান। দাম কমেছে ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। আর ৬৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। অর্থাত্ একদিনেই ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১৫ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। মূলধন বাড়ার অর্থ হলো, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম সম্মিলিতভাবে ঐ পরিমাণ বেড়েছে।
বড় অঙ্কের বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের ৯ মার্চের পর সূচকটির সব থেকে বড় পতন হলো।
প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় পতন হয়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৮২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ৩৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল এক শতাংশের ওপরে দাম কমেছে ২৩৮টির। এর মধ্যে ৪১টি দিনের দাম কমার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। আর ৪ শতাংশের ওপরে দাম কমেছে ১৪৭টির। ১৫০টির দাম কমেছে ৫ শতাংশের ওপরে। গতকাল ডিএসইর লেনদেন হয়েছে ৫২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫৪২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৪টির। আর ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
তথ্য মতে, গত বছর যখন দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হয় তখন বাজারে বড় পতন হয়েছিল। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ঐ সংবাদে ৯ মার্চ ভয়াবহ ধস নামে শেয়ারবাজারে। সেসময় একদিনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ২৭৯ পয়েন্ট পড়ে যায়। আর তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যায় ১৭ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। বড় ওই ধসের পরও শেয়ারবাজরে ধস চলতে থাকে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস (শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। পরে বন্ধ করে দেওয়া হয় লেনদেন। টানা ৬৬ দিন বন্ধ ছিল শেয়ারবাজারের লেনদেন।
এরপর বিএসইসির নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের ৩১ মে শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন শুরু হয়। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাবও পড়ে। কিন্তু এখন নতুন করে আবার ধাক্কা খেল শেয়ারবাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *