গণহত্যার বিচার শুরু, এ সরকারের আমলেই রায়

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে দাখিল করা ফরমাল চার্জ সোমবার আমলে নেওয়া হয়েছে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—এই সরকারের আমলেই সেই বিচার শেষ হবে এবং রায়ও ঘোষণা করা হবে।

এক ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া সমাজে দৃশ্যমান করার জোরালো দাবি ছিল। এই দাবি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল আট মাস আগেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের মাধ্যমে। এরপর প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন হয়। তদন্তকারীরা কয়েকটি মামলার তদন্ত সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা আমলে নেওয়া হয়েছে।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়, শেখ হাসিনার বিচার আর শুধুই আলোচনা বা দাবি নয়—এখন এটি একটি কার্যকর বাস্তবতা।

চার্জ আমলে, বিচারের যাত্রা শুরু: রবিবার (২৫ মে) চাঁনখারপুল গণহত্যা মামলায় তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। এর মধ্য দিয়েই শুরু হলো বাংলাদেশে এক নতুন ইতিহাসের অধ্যায়—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাঠগড়ায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় পুলিশ নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।

এই গণহত্যার জন্য পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দায়ী করা হয়েছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরও। আর সেই সিদ্ধান্তদাতার আসনে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধান আসামি শেখ হাসিনা: এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও আটজন নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি মো. আরশাদ হোসেন এবং তিনজন কনস্টেবল—মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

চারজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, বাকিরা পলাতক।

‘রক্তে’ লেখা চার্জশিট: এই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক লোমহর্ষক তথ্য। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নয়, বরং সরাসরি প্রাণঘাতী গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলে মারা যান ছয়জন তরুণ। শতাধিক আহত হন। এর মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “এই বিচার শুধু শেখ হাসিনার বিচার নয়—এটি ৫ আগস্ট শহীদদের প্রতি জাতির দায়মোচন। এটি গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ এবং শাসকশ্রেণির দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি ন্যায়বিচার?: বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা দাবি করছে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে শেখ হাসিনার নামে ‘মিথ্যা মামলা’ করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটি গণহত্যার বিচার। ট্রাইব্যুনালের কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের, এখানে রাজনৈতিক প্রভাব নেই।”

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সদস্যও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “নতুন বাংলাদেশে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই বার্তা দেশবাসীর পাশাপাশি বিশ্বকেও দিতে হবে।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলেও দৃষ্টি কেড়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক সংস্থা এর ওপর নজর রাখছে। তারা চায়, এই বিচার হোক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতায় উদাহরণস্বরূপ।

ইতোমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনেকেই বলছে—বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব গণহত্যার জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হচ্ছে।

অভিযুক্তকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ: ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। পলাতক থাকলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিচারিক সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, “শেখ হাসিনা এখনো আত্মগোপনে আছেন। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালানো হবে।”

বিচারের গতি ও প্রত্যাশা: প্রসিকিউশন অফিস বলছে, তারা চায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হোক। ইতোমধ্যে ৪২ জন সাক্ষীর তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ভিডিও ফুটেজ, কলরেকর্ডসহ একাধিক প্রমাণ আদালতে দাখিল করা হবে।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাল্লাহ, এই সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমরা এই মামলার রায় হাতে পাবো। এটি হবে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ এক নজিরবিহীন ঘটনা। শেখ হাসিনার মতো একজন দীর্ঘ সময়ের শাসকের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। বিচার হবে কিনা, রায় কী হবে—তা ভবিষ্যতের হাতে। তবে আজ যা শুরু হলো, তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে সাহস, প্রত্যয়ের আর রক্তস্নাত ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

গণহত্যার বিচার শুরু, এ সরকারের আমলেই রায়

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে দাখিল করা ফরমাল চার্জ সোমবার আমলে নেওয়া হয়েছে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—এই সরকারের আমলেই সেই বিচার শেষ হবে এবং রায়ও ঘোষণা করা হবে।

এক ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া সমাজে দৃশ্যমান করার জোরালো দাবি ছিল। এই দাবি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল আট মাস আগেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের মাধ্যমে। এরপর প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন হয়। তদন্তকারীরা কয়েকটি মামলার তদন্ত সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা আমলে নেওয়া হয়েছে।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়, শেখ হাসিনার বিচার আর শুধুই আলোচনা বা দাবি নয়—এখন এটি একটি কার্যকর বাস্তবতা।

চার্জ আমলে, বিচারের যাত্রা শুরু: রবিবার (২৫ মে) চাঁনখারপুল গণহত্যা মামলায় তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। এর মধ্য দিয়েই শুরু হলো বাংলাদেশে এক নতুন ইতিহাসের অধ্যায়—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাঠগড়ায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় পুলিশ নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।

এই গণহত্যার জন্য পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দায়ী করা হয়েছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরও। আর সেই সিদ্ধান্তদাতার আসনে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধান আসামি শেখ হাসিনা: এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও আটজন নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি মো. আরশাদ হোসেন এবং তিনজন কনস্টেবল—মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

চারজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, বাকিরা পলাতক।

‘রক্তে’ লেখা চার্জশিট: এই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক লোমহর্ষক তথ্য। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নয়, বরং সরাসরি প্রাণঘাতী গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলে মারা যান ছয়জন তরুণ। শতাধিক আহত হন। এর মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “এই বিচার শুধু শেখ হাসিনার বিচার নয়—এটি ৫ আগস্ট শহীদদের প্রতি জাতির দায়মোচন। এটি গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ এবং শাসকশ্রেণির দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি ন্যায়বিচার?: বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা দাবি করছে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে শেখ হাসিনার নামে ‘মিথ্যা মামলা’ করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটি গণহত্যার বিচার। ট্রাইব্যুনালের কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের, এখানে রাজনৈতিক প্রভাব নেই।”

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সদস্যও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “নতুন বাংলাদেশে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই বার্তা দেশবাসীর পাশাপাশি বিশ্বকেও দিতে হবে।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলেও দৃষ্টি কেড়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক সংস্থা এর ওপর নজর রাখছে। তারা চায়, এই বিচার হোক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতায় উদাহরণস্বরূপ।

ইতোমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনেকেই বলছে—বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব গণহত্যার জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হচ্ছে।

অভিযুক্তকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ: ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। পলাতক থাকলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিচারিক সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, “শেখ হাসিনা এখনো আত্মগোপনে আছেন। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালানো হবে।”

বিচারের গতি ও প্রত্যাশা: প্রসিকিউশন অফিস বলছে, তারা চায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হোক। ইতোমধ্যে ৪২ জন সাক্ষীর তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ভিডিও ফুটেজ, কলরেকর্ডসহ একাধিক প্রমাণ আদালতে দাখিল করা হবে।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাল্লাহ, এই সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমরা এই মামলার রায় হাতে পাবো। এটি হবে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ এক নজিরবিহীন ঘটনা। শেখ হাসিনার মতো একজন দীর্ঘ সময়ের শাসকের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। বিচার হবে কিনা, রায় কী হবে—তা ভবিষ্যতের হাতে। তবে আজ যা শুরু হলো, তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে সাহস, প্রত্যয়ের আর রক্তস্নাত ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।