ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচের শুরুটাই হতাশাজনক ছিল বাংলাদেশের জন্য। শেষ ভরসা ছিল বোলিং ইউনিটের ওপর। কিন্তু সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে সেই আশাও অনেকটা মিলিয়ে গেছে। নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদদের নিষ্প্রভ বোলিংয়ে দিন শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে তুলনামূলক স্বস্তিতে। তবে এটাও ঠিক, ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারেনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা প্রাপ্য।
আলোকস্বল্পতায় খেলা থামার আগ পর্যন্ত ১৪.১ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ৬৭ রান, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। যদিও এখনো তারা পিছিয়ে আছে ১২৪ রানে।
যে উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দিনের শুরু থেকে সংগ্রাম করেছেন, সেখানেই বেনেট ব্যাট চালিয়েছেন ওয়ানডে মেজাজে। মাত্র ৩৭ বলে ৬টি চারে ৪০ রান করেন তিনি। অন্যদিকে, বেন কারেন খেলেছেন ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে—৪৯ বলে ১৭ রান। বাংলাদেশের চার বোলারকেই ব্যবহার করেও অধিনায়ক উইকেটের দেখা পাননি।
এর আগে দিনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাদমান ও মাহমুদুল জয়। নিয়াগুচির দুই দারুণ ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন দুজনেই। এরপর শান্ত ও মুমিনুল হক মিলে ৬৬ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের ১৯১ রানের ইনিংস দাঁড় করাতে এই জুটিই ছিল মূল অবলম্বন।
লাঞ্চের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টায়। ৯৮ রানে শান্ত ফিরলে ধস নামে মিডল অর্ডারে। মুশফিক ও মিরাজ ব্যর্থ হন, মুমিনুল কিছুটা লড়াই করলেও ৫৬ রানে থামেন। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানেই কাঁপতে থাকে টাইগাররা। এরপর জাকের আলী অনিক ও হাসান মাহমুদ মিলে ৮ম উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়লেও সেটি দুইশো পার করাতে যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত মাধেভেরে ও মুজারাবানির দারুণ বোলিংয়ে ১৯১ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
এই ইনিংস দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় রেকর্ড। এর আগে ২০০১ সালে ঢাকায় ১০৭ রানে অলআউট হয়েছিল দলটি। ২৪ বছর পর এসে আবারও এমন বিব্রতকর দিনের সাক্ষী হলো টাইগাররা।






