জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ এবং সাধারণ বাজেটের ২২ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে। নতুন বাজেট প্রস্তাবে এই অর্থায়ন পুরোপুরি বাতিলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে ন্যাটো, ইউএসএইড (USAID), ভয়েস অব আমেরিকা (VOA) এবং রেডিও ফ্রি ইউরোপের মতো সফট পাওয়ার কার্যক্রমেও অর্থায়ন বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এসব পুরোনো কাঠামো বাদ দিয়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট অপরচুনিটিজ ফান্ড’ (America First Opportunities Fund – A1OF) নামে নতুন একটি তহবিল গঠন করা হবে, যা নির্বাচিত বিদেশি সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন করবে।
জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, মার্কিন অর্থায়ন হ্রাসের কারণে ইতিমধ্যেই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা (OCHA) ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, সিরিয়া, লেবাননসহ একাধিক দেশে জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ কিংবা সীমিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ হলে জাতিসংঘ বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। দুই বছরের বেশি সময় বকেয়া থাকলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাধিকারও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। অতীতে কংগ্রেস এই ধরনের বেশ কিছু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাই এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।






