সবার সঙ্গে কথা বলে ‘মানবিক করিডোর’র সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইনে ত্রাণ সহায়তার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ‘মানবিক করিডোর’ গঠনের বিষয়ে জাতিসংঘ উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ সরকার সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার (২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মানবিক করিডোর নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এটি হতে হবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এবং মিয়ানমারের সম্মতি থাকলে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে দু’টি দেশের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন হয়। জাতিসংঘ যদি এগিয়ে আসে এবং মিয়ানমার সম্মত হয়, তাহলে বাংলাদেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুল আলম বলেন, “তারা রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে ভয় পেত। তখন তারা রোহিঙ্গাদের বলতো ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (FDMN)’—যা তাদের অধিকারের প্রতি অবিশ্বাসের পরিচয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বন্দর উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রেস সচিব। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অপারেটর নিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দরের দক্ষতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে চায় সরকার।

তার ভাষায়, “বর্তমানে নিউ মুরিং টার্মিনালে বছরে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ছয় গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাধিক বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা রাখে।”

তিনি আরও জানান, অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে পারে ওপেন টেন্ডার বা রাষ্ট্রীয় (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে। তবে দক্ষতা ও সুনাম ছাড়া কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

সবার সঙ্গে কথা বলে ‘মানবিক করিডোর’র সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইনে ত্রাণ সহায়তার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ‘মানবিক করিডোর’ গঠনের বিষয়ে জাতিসংঘ উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ সরকার সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার (২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মানবিক করিডোর নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এটি হতে হবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এবং মিয়ানমারের সম্মতি থাকলে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে দু’টি দেশের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন হয়। জাতিসংঘ যদি এগিয়ে আসে এবং মিয়ানমার সম্মত হয়, তাহলে বাংলাদেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুল আলম বলেন, “তারা রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে ভয় পেত। তখন তারা রোহিঙ্গাদের বলতো ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (FDMN)’—যা তাদের অধিকারের প্রতি অবিশ্বাসের পরিচয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বন্দর উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রেস সচিব। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অপারেটর নিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দরের দক্ষতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে চায় সরকার।

তার ভাষায়, “বর্তমানে নিউ মুরিং টার্মিনালে বছরে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ছয় গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাধিক বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা রাখে।”

তিনি আরও জানান, অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে পারে ওপেন টেন্ডার বা রাষ্ট্রীয় (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে। তবে দক্ষতা ও সুনাম ছাড়া কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।