আন্দোলনকারীরা অনড়, আ’লীগ নিষিদ্ধে উপায় খুঁজছে সরকার

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে নিষিদ্ধের দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশ। শাহবাগ মোড়ে ছাত্র-জনতার অবরোধ অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ‘জুলাই গণআন্দোলন’-এর নেতৃত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগকে ‘গণহত্যাকারী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ করতে হবে।

এই দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলামসহ একাধিক দলও একাত্মতা জানিয়েছে। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন—দাবি পূরণ না হলে রাজধানীমুখী ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি চালু হবে, যেটির মাধ্যমে আগেও ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নিষিদ্ধের ইঙ্গিত দিলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—শুধু সহযোগী সংগঠন নয়, মূল দল আওয়ামী লীগকেই নিষিদ্ধ করতে হবে। এই চাপের মুখে পড়ে সরকার এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় দলটি নিষিদ্ধের উপায় খুঁজছে।

সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা ‘স্বৈরশাসন’ ও ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’-এর অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণও এতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রচলিত আইনের আওতায় ছাত্রলীগকে ইতোমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসাথে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে সংশোধনী আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়ার পেছনে উপদেষ্টাদের কারও কারও ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন—আইসিটি আইনে দল নিষিদ্ধের বিধান তার মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করেছিল এবং তিনিই তা উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আমরা চাইলে দ্রুত আইসিটি আইন সংশোধন করতে পারি, চাইলে সন্ত্রাস দমন আইনও ব্যবহার করা যেতে পারে। আইনের কোনো বাধা নেই, এখন শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।”

এই প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করছে। জনগণের দৃষ্টিতে এখন প্রশ্ন একটাই—আওয়ামী লীগ আদৌ নিষিদ্ধ হবে কি না?

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

আন্দোলনকারীরা অনড়, আ’লীগ নিষিদ্ধে উপায় খুঁজছে সরকার

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে নিষিদ্ধের দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশ। শাহবাগ মোড়ে ছাত্র-জনতার অবরোধ অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ‘জুলাই গণআন্দোলন’-এর নেতৃত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগকে ‘গণহত্যাকারী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ করতে হবে।

এই দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলামসহ একাধিক দলও একাত্মতা জানিয়েছে। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন—দাবি পূরণ না হলে রাজধানীমুখী ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি চালু হবে, যেটির মাধ্যমে আগেও ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নিষিদ্ধের ইঙ্গিত দিলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—শুধু সহযোগী সংগঠন নয়, মূল দল আওয়ামী লীগকেই নিষিদ্ধ করতে হবে। এই চাপের মুখে পড়ে সরকার এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় দলটি নিষিদ্ধের উপায় খুঁজছে।

সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা ‘স্বৈরশাসন’ ও ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’-এর অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণও এতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রচলিত আইনের আওতায় ছাত্রলীগকে ইতোমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসাথে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে সংশোধনী আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়ার পেছনে উপদেষ্টাদের কারও কারও ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন—আইসিটি আইনে দল নিষিদ্ধের বিধান তার মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করেছিল এবং তিনিই তা উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আমরা চাইলে দ্রুত আইসিটি আইন সংশোধন করতে পারি, চাইলে সন্ত্রাস দমন আইনও ব্যবহার করা যেতে পারে। আইনের কোনো বাধা নেই, এখন শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।”

এই প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করছে। জনগণের দৃষ্টিতে এখন প্রশ্ন একটাই—আওয়ামী লীগ আদৌ নিষিদ্ধ হবে কি না?