বাংলাদেশের শীর্ষ তালিকাভুক্ত পলাতক সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে সেনাবাহিনীর একটি গোপন অভিযানে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুখ্যাত এই সন্ত্রাসীকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদসহ কুষ্টিয়া থেকে আটক করা হয়। দেশজুড়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও নাশকতার ঘটনায় জড়িত সুব্রত দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী ছিলেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে কুষ্টিয়ার একটি নির্জন এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। অভিযানে কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনা সদস্যরা। অভিযানের সময় সুব্রত ও মাসুদ নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করলেও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করা হয়।
সুব্রত বাইন এক সময় রাজধানী ঢাকায় অপরাধ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। দেশের ভেতরে ও বাইরে একাধিক নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজনের বেশি হত্যা মামলা, অপহরণ, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
আটককৃতদের কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এনে সেনা গোয়েন্দা বিভাগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় অপরাধচক্রের কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সুব্রত বাইনকে দ্রুত রিমান্ডে এনে তার পেছনে থাকা গডফাদারদের নাম বের করার চেষ্টা চলছে। এই গ্রেফতারকে ‘ক্রাইম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বড় বিজয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।






