পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধসাজে আমেরিকা

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছে আমেরিকা ও ইরান। প্রথম দফার বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বললেও, পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক নয়, তা স্পষ্ট করল হোয়াইট হাউসের পদক্ষেপ। আলোচনার মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিমান ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে আমেরিকা।

পেন্টাগন জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে কতসংখ্যক B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান পাঠানো হচ্ছে, তা জানায়নি তারা। এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় ইয়েমেন, কুয়েত, কাতার ও ইরাকের ঘাঁটিতে বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, ভারতের নিকটবর্তী দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই ছয়টি B-2 অবতরণ করেছে এবং চলছে যুদ্ধাভ্যাস। এই বোমারু বিমানগুলো ‘জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর’ বহনে সক্ষম—যা পারমাণবিক অস্ত্র বাদ দিলে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা।

এছাড়া প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্য—ইরানপন্থী হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথিদের সামরিক ক্ষমতা দমন এবং ইজরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা একদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় জড়ালেও, অন্যদিকে সামরিক চাপের কৌশল নিচ্ছে। যদি আলোচনা ভেস্তে যায়, তাহলে সরাসরি আঘাত হানার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং ইরানের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এখন আবার আলোচনায় ফিরলেও, বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মতে, ইরান ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। যদিও তেহরান দাবি করেছে, এটি শুধুই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই উত্তেজনার আবহে ওমানের রাজধানী মাসকটে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফা এপ্রিলে হওয়ার কথা। তবে আলোচনার মাঝেই আমেরিকার বোমা-হুমকি ও সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধসাজে আমেরিকা

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

সংগৃহীত

পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছে আমেরিকা ও ইরান। প্রথম দফার বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বললেও, পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক নয়, তা স্পষ্ট করল হোয়াইট হাউসের পদক্ষেপ। আলোচনার মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিমান ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে আমেরিকা।

পেন্টাগন জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে কতসংখ্যক B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান পাঠানো হচ্ছে, তা জানায়নি তারা। এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় ইয়েমেন, কুয়েত, কাতার ও ইরাকের ঘাঁটিতে বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, ভারতের নিকটবর্তী দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই ছয়টি B-2 অবতরণ করেছে এবং চলছে যুদ্ধাভ্যাস। এই বোমারু বিমানগুলো ‘জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর’ বহনে সক্ষম—যা পারমাণবিক অস্ত্র বাদ দিলে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা।

এছাড়া প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্য—ইরানপন্থী হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথিদের সামরিক ক্ষমতা দমন এবং ইজরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা একদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় জড়ালেও, অন্যদিকে সামরিক চাপের কৌশল নিচ্ছে। যদি আলোচনা ভেস্তে যায়, তাহলে সরাসরি আঘাত হানার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং ইরানের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এখন আবার আলোচনায় ফিরলেও, বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মতে, ইরান ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। যদিও তেহরান দাবি করেছে, এটি শুধুই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই উত্তেজনার আবহে ওমানের রাজধানী মাসকটে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফা এপ্রিলে হওয়ার কথা। তবে আলোচনার মাঝেই আমেরিকার বোমা-হুমকি ও সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।