গাজা ও পশ্চিম তীরে প্রতিনিয়ত যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে ইসরায়েল—এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান নিউজ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজায় চলমান যুদ্ধাপরাধ কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং পশ্চিম তীরেও একইভাবে প্রতিদিন অপরাধ চলছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী চোখ বুঁজে থাকে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ মে রাতে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারে ওলমার্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যেখানে পুলিশের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, সেখানে তারা নীরব দর্শক। সেনাবাহিনীও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। ফলে এসব অপরাধ নির্বিঘ্নেই ঘটে চলেছে।”
বর্তমান ডানপন্থী সরকারের কঠোর সমালোচনাও করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের সেই বক্তব্য—যেখানে তিনি হুওয়ারা গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন—ওলমার্ট তা সরাসরি ‘গণহত্যার ডাক’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, “যদি কেউ গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে, সেটা মানেই সে গণহত্যার আহ্বান জানাচ্ছে।”
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওলমার্ট মনে করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধের কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য নেই। বরং এই যুদ্ধ কেবল আরও সেনা মৃত্যুর কারণ হবে এবং গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তির সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
ইসরায়েলি সূত্র অনুযায়ী, হামাসের হাতে এখনো অন্তত ৫৮ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের অনেকে নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলার শিকার বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ওলমার্ট বলেন, “যখন মন্ত্রীরা বলেন—‘গাজায় কোনো শিশুকেও বাঁচিয়ে রাখা যাবে না’, তখন সেটি কেবল অমানবিকতা নয়, বরং তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ বার্তা বয়ে আনে। সরকার এই ভয়াবহ পরিণতির দিকটি বুঝতে পারছে না।”
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় টানা হামলা চালিয়ে আসছে, যাতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।






