বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। তিনি বলেন, “আমেরিকার ট্রাম্প, চীনের শি জিনপিং বা ভারতের মোদি এসে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দেবে—এই ভাবনায় থাকা উচিত নয়। দেশ গড়তে হলে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।”
শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বসুন্ধরায় রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল: ‘ক্ষমতায়ন বাংলাদেশ: নেতৃত্ব, ঐক্য এবং প্রবৃদ্ধির পথে কূটনীতি ও শাসনব্যবস্থার রূপান্তর’।
ফখরুল বলেন, “দেশে চলমান পরিস্থিতি দেখে মানুষ হতাশ হচ্ছে। কিন্তু আমরা আশা হারাইনি। অতীতেও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সফল হয়েছি। এবারও হবো।” তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত তারাই ছিল অগ্রণী শক্তি।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও সবাই একত্র হয়েছিল, আজও তেমনি ছাত্রদের ওপর গুলির ঘটনায় সব পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। “চিন্তা-ভাবনার পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা এক।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সমস্যা আছে, তবে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের বিশ্বাস, তিনি সফল হবেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে সহযোগিতা করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। এটি চর্চার বিষয়।”
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলামের কন্যা সাবরিনা ইসলাম রহমান। সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান।






