বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, তিনি আসন্ন নির্বাচনের তাড়াহুড়ো দেখতে পাচ্ছেন না। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র, সংস্কার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন জুনের মধ্যে হবে, আবার একবার বলেছিলেন ডিসেম্বরে। এই ধরনের দ্ব্যর্থক বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমি এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখছি না যে খুব শিগগির নির্বাচন হবে।”
নির্বাচন নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের শর্তযুক্ত অবস্থানের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, “একেকজন বলছেন, এটা না হলে নির্বাচন হবে না, ওটা না হলে হবে না। আবার কেউ বলছেন নির্বাচনে যাবেন না। এই অবস্থায় নির্বাচন কীভাবে হবে?”
তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “২০ বছর আগে যেভাবে তাকে দেখেছি, এখন অনেক পরিণত ও দায়িত্বশীল মনে হচ্ছে। এমনকি যারা তাকে সমর্থন করতেন না, তারাও এখন তার পরিণত নেতৃত্ব স্বীকার করছেন।”
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কখনও বলিনি যে আমরা সংস্কার চাই না। আমরা চাই প্রয়োজনীয় সংস্কার, কিন্তু সব কিছু তো মানা সম্ভব নয়। বিদেশে বসে থাকা কিছু তথাকথিত সাংবাদিক আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যারা বিদেশে বসে ইউটিউব-ফেসবুকে রাজনীতি শেখাচ্ছেন, তারা দেশে ফিরে এসে মাঠে নামুক। আমরা তাদের পরামর্শ গ্রহণ করব। আমি নিজে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে দেশে থেকে রাজনীতি করেছি, পালিয়ে যাইনি।”
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আপনার চারপাশে অনেক আওয়ামী লীগ ঘরানার মানুষ রয়েছে, যারা আপনার অর্জন ধ্বংস করে দিতে পারে। দয়া করে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আপনার সফলতার ওপর আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নির্ভর করছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ড. ইউনূস তা ঠিক করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু এ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা উচিত নয়।”
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা বলছেন বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে, তারা ভুল বলছেন। বরং আমরা আওয়ামী লীগের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েছি। তাদের আবার ক্ষমতায় আনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “সব দলকে জাতীয় স্বার্থে একতাবদ্ধ হতে হবে। একমাত্র ঐক্যের মাধ্যমেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল করা সম্ভব।”






