ছয় দফা দাবির সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা না পাওয়া পর্যন্ত দেশের সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে লাগাতার অচলাবস্থা সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন। এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) থেকে সব পলিটেকনিকে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাতে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের দফতর সম্পাদক মো. সাব্বির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “ছয় দফা না মানা হলে মৃত্যু অনিবার্য”—এই স্লোগান সামনে রেখে আন্দোলন চলবে।
এর আগে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২২ এপ্রিল আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে, এবং সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। কমিটিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়, ২০ এপ্রিল রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এক মহাসমাবেশে শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানা হলে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। পরে ২২ এপ্রিল আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
এর আগে ১৮ এপ্রিল ঢাকায় কাফনের কাপড় পরে গণমিছিল, ১৭ এপ্রিল রাতে মশাল মিছিল এবং ১৬ এপ্রিল তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।
ছয় দফা দাবি আদায়ে দৃঢ় অবস্থান ও টানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন এবার আন্দোলনে চূড়ান্ত চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে।






