১২ দিনের যুদ্ধে বিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, সতর্ক প্রতিক্রিয়া তেহরানের

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

১২ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে—এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৩ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ তিনি লেখেন, “সবকিছু ঠিকঠাক চললে, যা হবেই, আমি ইসরায়েল ও ইরান—এই দুই জাতিকে অভিনন্দন জানাই—তাদের ধৈর্য, সাহস ও প্রজ্ঞার জন্য, যা এই ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ বন্ধে সহায়ক হয়েছে।”

এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে অনেক পর্যবেক্ষক, যদিও এখনো এর বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, হোয়াইট হাউজের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সরাসরি ফোনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি আরও কৌশলী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যদি ইসরায়েল স্থানীয় সময় সকাল ৪টার মধ্যে হামলা বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতির প্রশ্নই ওঠে না।” অর্থাৎ, ইরান এখনো পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়; বরং শর্তসাপেক্ষে এই সমঝোতায় রাজি হয়েছে। এমন অবস্থানে তেহরান যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহের বীজ বপন করেছে।

ইরান-ইসরায়েল এই সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বকে অনেকেই তুলনা করছেন ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধ বা ২০১৯ সালের সিরিয়া-ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সঙ্গে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও ভিন্ন ও বিস্ফোরক। কারণ, সংঘর্ষের কেন্দ্রে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে এবং সে কারণেই যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা।

এই হামলার পরই পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট বলেন, “আমরা চাইলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতেই পারি—এবং বিশ্বের কোনও নেতাই তা ঠেকাতে পারবে না।” এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত উদ্বেগের চোখে দেখেছে। কারণ, এটা ইঙ্গিত করে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রে আগ্রহী এবং সেই ক্ষমতা অর্জনের খুব কাছাকাছি অবস্থানে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুররহমান আল থানি ব্যক্তিগতভাবে ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি করাতে তেহরানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেন। আলোচনায় জড়িত এক সূত্র জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্র চ্যানেল ১২-কে জানায়, তারা শিগগিরই ইরান অভিযানের একটি ধাপ সম্পন্ন করতে চায়। ফলে একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। এই পটভূমিতে নেতানিয়াহু তার মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দেন যেন কেউ মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কিছু না বলেন।

যুদ্ধবিরতির প্রভাব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে: দাম কমেছে তেলের: সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় কয়েক দিন ধরে যেসব বাজার অস্থির ছিল, সেগুলোতে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। বিশেষ করে তেলের বাজারে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার ভোরে এশিয়ার বাজারে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, কারণ ইরান এবং তার প্রতিবেশীরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারীদের মধ্যে পড়ে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধবিরতির রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক সাফল্য তাকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় একটি মঞ্চে নেতৃত্ব দিলেন, যেখানে তিনি মধ্যস্থতা করে যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। যদিও তার এ পদক্ষেপকে অনেকেই নতুন আর একটা স্টান্ডবাজি হিসেবে দেখছেন, তবুও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে তিনি ‘শান্তির বার্তাবাহক’ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছেন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে। নেতানিয়াহুর সরকার যুদ্ধ চালানোর পক্ষে হলেও আন্তর্জাতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তাকে আপাতত পিছু হটতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে দুইটি শক্তির দ্বন্দ্ব স্পষ্ট—একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতা, অন্যদিকে আয়াতুল্লাহ খামেনির কঠোর অবস্থান।

যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নির্ভর করছে ‘ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে’: যদিও এই যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত কাগজে-কলমে, কিন্তু বাস্তবে সংঘর্ষ থামবে কি না, তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ওপর। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হলে দুই পক্ষকেই সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে এবং একে অন্যের প্রতি আস্থা রাখতে হবে—যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে খুবই বিরল।

এই সমঝোতা কতদিন স্থায়ী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে আন্তর্জাতিক মহল আপাতত স্বস্তি পাচ্ছে, অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও এই যুদ্ধবাজ পৃথিবীতে কিছুটা শান্তির প্রত্যাশা জন্ম নিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

১২ দিনের যুদ্ধে বিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, সতর্ক প্রতিক্রিয়া তেহরানের

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

সংগৃহীত

১২ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে—এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৩ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ তিনি লেখেন, “সবকিছু ঠিকঠাক চললে, যা হবেই, আমি ইসরায়েল ও ইরান—এই দুই জাতিকে অভিনন্দন জানাই—তাদের ধৈর্য, সাহস ও প্রজ্ঞার জন্য, যা এই ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ বন্ধে সহায়ক হয়েছে।”

এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে অনেক পর্যবেক্ষক, যদিও এখনো এর বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, হোয়াইট হাউজের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সরাসরি ফোনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি আরও কৌশলী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যদি ইসরায়েল স্থানীয় সময় সকাল ৪টার মধ্যে হামলা বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতির প্রশ্নই ওঠে না।” অর্থাৎ, ইরান এখনো পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়; বরং শর্তসাপেক্ষে এই সমঝোতায় রাজি হয়েছে। এমন অবস্থানে তেহরান যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহের বীজ বপন করেছে।

ইরান-ইসরায়েল এই সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বকে অনেকেই তুলনা করছেন ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধ বা ২০১৯ সালের সিরিয়া-ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সঙ্গে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও ভিন্ন ও বিস্ফোরক। কারণ, সংঘর্ষের কেন্দ্রে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে এবং সে কারণেই যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা।

এই হামলার পরই পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট বলেন, “আমরা চাইলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতেই পারি—এবং বিশ্বের কোনও নেতাই তা ঠেকাতে পারবে না।” এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত উদ্বেগের চোখে দেখেছে। কারণ, এটা ইঙ্গিত করে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রে আগ্রহী এবং সেই ক্ষমতা অর্জনের খুব কাছাকাছি অবস্থানে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুররহমান আল থানি ব্যক্তিগতভাবে ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি করাতে তেহরানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেন। আলোচনায় জড়িত এক সূত্র জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্র চ্যানেল ১২-কে জানায়, তারা শিগগিরই ইরান অভিযানের একটি ধাপ সম্পন্ন করতে চায়। ফলে একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। এই পটভূমিতে নেতানিয়াহু তার মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দেন যেন কেউ মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কিছু না বলেন।

যুদ্ধবিরতির প্রভাব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে: দাম কমেছে তেলের: সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় কয়েক দিন ধরে যেসব বাজার অস্থির ছিল, সেগুলোতে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। বিশেষ করে তেলের বাজারে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার ভোরে এশিয়ার বাজারে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, কারণ ইরান এবং তার প্রতিবেশীরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারীদের মধ্যে পড়ে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধবিরতির রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক সাফল্য তাকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় একটি মঞ্চে নেতৃত্ব দিলেন, যেখানে তিনি মধ্যস্থতা করে যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। যদিও তার এ পদক্ষেপকে অনেকেই নতুন আর একটা স্টান্ডবাজি হিসেবে দেখছেন, তবুও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে তিনি ‘শান্তির বার্তাবাহক’ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছেন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে। নেতানিয়াহুর সরকার যুদ্ধ চালানোর পক্ষে হলেও আন্তর্জাতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তাকে আপাতত পিছু হটতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে দুইটি শক্তির দ্বন্দ্ব স্পষ্ট—একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতা, অন্যদিকে আয়াতুল্লাহ খামেনির কঠোর অবস্থান।

যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নির্ভর করছে ‘ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে’: যদিও এই যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত কাগজে-কলমে, কিন্তু বাস্তবে সংঘর্ষ থামবে কি না, তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ওপর। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হলে দুই পক্ষকেই সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে এবং একে অন্যের প্রতি আস্থা রাখতে হবে—যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে খুবই বিরল।

এই সমঝোতা কতদিন স্থায়ী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে আন্তর্জাতিক মহল আপাতত স্বস্তি পাচ্ছে, অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও এই যুদ্ধবাজ পৃথিবীতে কিছুটা শান্তির প্রত্যাশা জন্ম নিয়েছে।