রিতু মনি—এই নামটা এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য জায়গা দখল করে নিয়েছে। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে যখন ১৩৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ, তখনই হাল ধরেন মিডলঅর্ডার ব্যাটার রিতু।
২৩৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬১ বলে ৬৭ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে দলকে ৮ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখে জয় এনে দেন তিনি। জয়সূচক রানটি আসে ছক্কা মেরে, যেন এক রূপকথার ইতি টানা হয় নাটকীয়ভাবে।
আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১২১ ম্যাচ খেলা এই রিতুর এর আগে কোনো ইনিংসেই ৪০ ছোঁয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না! অথচ সেই রিতুর হাত ধরেই বাংলাদেশ পেল এক অবিস্মরণীয় জয়, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নটাও হল আরও উজ্জ্বল।
প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭১ রানের দলীয় রেকর্ড গড়ার পর আজ আবার সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতল নিগার সুলতানার দল।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে রাবেয়া খান নেন ৩ উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ পড়ে বড় চাপে—মাত্র ২ রানে পড়ে যায় ২ উইকেট। শারমিন (২৪) ও নিগার (৫১) কিছুটা স্থিতি ফেরান, তবে ৯৪ রানে যখন অধিনায়ক নিগার বিদায় নেন, তখনো ম্যাচ পুরোপুরি আইরিশদের পক্ষে হেলে।
ঠিক তখনই দৃশ্যপট বদলান রিতু মনি। ফাহিমা (২৮), জান্নাতুল (১৯) ও নাহিদা (১৮*)-কে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচটা টেনে নিয়ে যান জয়ের কিনারায়।
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ স্কটল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টে শীর্ষ দুই দল যাবে মূল বিশ্বকাপে, যা হবে ভারতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, এটা এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। রিতু মনি প্রমাণ করলেন—যারা চোখে পড়ে না, তারাও একদিন নায়ক হয়ে ওঠেন।






