সরকারি চাকরি আইন সংশোধনের প্রতিবাদে কর্মচারীদের বিক্ষোভ ঘিরে সচিবালয় এলাকায় নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের দ্বিতীয় দিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, এপিবিএন, সোয়াট, বিজিবি এবং র্যাব সদস্যরা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকেই সচিবালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। সোয়াটের সশস্ত্র যান ও পুলিশের এপিসি গাড়ি মোতায়েন করে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে র্যাবের দুটি টহল টিমও যুক্ত হয় নিরাপত্তা বলয়ে।
র্যাবের ডিএডি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা সচিবালয় এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছি। নিরাপত্তায় কোনও ঘাটতি রাখা হবে না।”
সচিবালয়ের প্রধান ফটক ছাড়াও অন্যান্য প্রবেশপথেও কঠোর নজরদারি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন। দর্শনার্থীদের প্রবেশ আপাতত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ২৬ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ বাতিল, সচিবালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ ও জনপ্রশাসন সচিব মো. মোখলেসউর রহমানের অপসারণের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ফলে সচিবালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কর্মচারী নেতা নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “সরকার যদি রাতারাতি কোনও ইতিবাচক বার্তা দেয়, তবে পরবর্তী কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।”
আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের প্রতিবাদ কোনও ব্যক্তি বা সরকারবিরোধী নয়; এটি একটি কালো আইন বাতিলের ন্যায্য আন্দোলন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে জারি হওয়া সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়, কোনও সরকারি কর্মকর্তা অনানুগত্য করলে, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বা কর্তব্যে বাধা দিলে, তাকে গ্রেড অবনতি, অপসারণ কিংবা বরখাস্ত করা যেতে পারে।
সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে সচিবালয়ে আজ বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ, আর আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে বারবারই শোনা যাচ্ছে একটি কথা— “অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই।”






