নিয়োগ, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মগবাজার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৪ মে) সকাল থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
দুদকের অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মুহাম্মদ তুহিন ফারাবী, রেড ক্রিসেন্টের ট্রেজারার আমিনুল ইসলাম, ম্যানেজিং বোর্ড সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং পরিচালক ইমাম জাফর সিকদার।
সূত্র জানায়, তুহিন ফারাবীর বিরুদ্ধে ৩২০ কোটি টাকার পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই কারণে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করা হয়েছিল, তবে তিনি এখনো রেড ক্রিসেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন। বর্তমানে তিনি ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তুহিন ফারাবী রেড ক্রিসেন্টে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। এই সিন্ডিকেট বদলি, পদায়ন, চাকরি নিয়মিতকরণ ও টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করছে।
এছাড়া ট্রেজারার আমিনুল ইসলাম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও পরিচালক ইমাম জাফর সিকদারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চুক্তিভিত্তিক চাকরি দেওয়া, আর্থিক সুবিধা বিনিময়ে বদলি ও পদোন্নতি, এবং প্রকল্পভিত্তিক তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম।
দুদক বলছে, রেড ক্রিসেন্ট একটি মানবিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত জনগণের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দাতা সংস্থাগুলোর আস্থা হ্রাস করতে পারে।






