জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়ে এখন শঙ্কায় বিএনপি। দলটির ধারণা, সরকারে থাকা একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত করে যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ দিতে নতুন করে রাজনৈতিক কৌশল সাজাচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির নেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচন নিয়ে কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি। যদিও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫–এর মধ্যে ‘সেরা নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিএনপি মনে করছে, কথার চেয়ে কাজ বেশি জরুরি। তারা বলছে, নির্বাচন আয়োজনে যেসব প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, তা দৃশ্যমান নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকারের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায় বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, কিন্তু তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
এই প্রেক্ষাপটে দলটি আবারও সেই সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যারা অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির লক্ষ্য— প্রয়োজন হলে সম্মিলিতভাবে রাজপথে নেমে সরকারকে বাধ্য করা যেন নির্বাচন আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। তারা বলছে, নির্বাচন নিয়ে শুধু সময়সীমা বললে হবে না— দিন-তারিখ ও প্রস্তুতি দৃশ্যমান হওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ড. ইউনূসকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখার দাবি উঠেছে, যা বিএনপির মতে, সরকারঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠীর পরিকল্পিত প্রচারণা। দলটি এটিকে ২০০৭ সালের ১/১১–এর পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছে।
১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি চিঠি দিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
বিএনপি ইতিমধ্যে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে। ২১ এপ্রিল লেবার পার্টির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লেবার পার্টির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “মানুষ বিভ্রান্ত— কেউ বলছে সংসদ নির্বাচন, কেউ বলছে গণপরিষদ নির্বাচন। এই অস্পষ্টতা রাজনৈতিক সংকট বাড়াচ্ছে।”
বিএনপির এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর আমির সম্প্রতি লন্ডনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ঢাকায় ফিরে তিনি বলেন, জরুরি সংস্কারের পর আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন হওয়া উচিত।
বিএনপির ধারণা, নির্বাচন ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারির মধ্যে না হলে রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে এবং দেশে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তাই দলটি এখন থেকেই সক্রিয় হয়ে একমঞ্চে সব বিরোধী দলকে আনতে চায়, যাতে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
সূত্র: বিবিসি






