ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা এখনও বাতিল করেনি ইসরায়েল, যদিও এই মুহূর্তে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানাতে অনিচুক যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স একাধিক সূত্রের বরাতে জানায়, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল এই হামলার বিভিন্ন রূপরেখা তুলে ধরেছে ওয়াশিংটনের কাছে। বসন্ত কিংবা গ্রীষ্মে সম্ভাব্য হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনায় বিমান হামলার পাশাপাশি কমান্ডো অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরায়েলের ধারণা, এটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি অন্তত এক বছরের জন্য পিছিয়ে যাবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগেও বলেছেন, আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল হতে হবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সম্পূর্ণ বর্জন।
তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউজে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কূটনৈতিক চেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এই আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েল সীমিত পরিসরে হামলার সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামান্য সহায়তাও পেলে তারা এই মিশন বাস্তবায়নে আগ্রহী।
এদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকি জানিয়েছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক আলোচনায় ‘ফলপ্রসূ’ অগ্রগতি হয়েছে। একইসঙ্গে, এক ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুঁশিয়ার করে বলেন, ইসরায়েল হামলা চালালে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
রয়টার্স এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, “আমি চাই ইরান একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হোক। যুদ্ধ নয়, শান্তিই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।






