সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীতের উদ্যোগ, ভিন্নমত শিক্ষকদের

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড হবে ১২তম এবং প্রধান শিক্ষকদের হবে ১০ম গ্রেড। তবে এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বে গঠিত ‘প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়ন পরামর্শক কমিটি’র সুপারিশ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জনবল কাঠামোয় নতুন গ্রেড অন্তর্ভুক্তির জন্য চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে চার লাখের মতো শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাঁদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড ১১তম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম।

পরামর্শক কমিটি সুপারিশ করেছে, সহকারী শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করে সরাসরি ‘শিক্ষক’ পদ থেকে চাকরি শুরু করার। এতে শুরুতে বেতন গ্রেড হবে ১২তম, এরপর চাকরি স্থায়ী হওয়ার দুই বছর পরে এবং আরও দুই বছর পরে সিনিয়র শিক্ষক পদে উন্নীত হয়ে বেতন গ্রেড হবে ১১তম। প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের সুপারিশও করেছে কমিটি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

শিক্ষকদের ভিন্নমত এবং কর্মসূচি ঘোষণা

সহকারী শিক্ষকেরা সরকারের এ প্রস্তাব মানতে নারাজ। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বলেছেন, সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড ১১তম নির্ধারণের দাবি তাঁরা আদায় করেই ছাড়বেন।

‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দাবি তিনটি হলো:
১. সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড ১১তম করা,
২. চাকরিতে ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীতকরণের জটিলতা নিরসন,
৩. শতভাগ পদোন্নতিতে প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীতকরণ।

এ দাবিগুলোর বাস্তবায়নে সরকারকে ৪ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দাবির পূরণ না হলে ৫ মে থেকে শুরু হবে পর্যায়ক্রমে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, অর্ধদিবস এবং শেষে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি।

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র শেখ মোহাম্মদ ছায়িদ উল্লা বলেছেন, আদালতের রায়ের আলোকে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা প্রদান অবশ্যই ইতিবাচক। তবে তা কেবল রিট আবেদনকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য নয়, বরং সব প্রধান শিক্ষকের জন্য কার্যকর করতে হবে।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এই মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। তা না হলে তাঁদের মধ্যে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সর্বশেষ ২০২০ সালে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্ন গ্রেড নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে সরকারি সিদ্ধান্ত ও শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীতের উদ্যোগ, ভিন্নমত শিক্ষকদের

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড হবে ১২তম এবং প্রধান শিক্ষকদের হবে ১০ম গ্রেড। তবে এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বে গঠিত ‘প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়ন পরামর্শক কমিটি’র সুপারিশ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জনবল কাঠামোয় নতুন গ্রেড অন্তর্ভুক্তির জন্য চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে চার লাখের মতো শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাঁদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড ১১তম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম।

পরামর্শক কমিটি সুপারিশ করেছে, সহকারী শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করে সরাসরি ‘শিক্ষক’ পদ থেকে চাকরি শুরু করার। এতে শুরুতে বেতন গ্রেড হবে ১২তম, এরপর চাকরি স্থায়ী হওয়ার দুই বছর পরে এবং আরও দুই বছর পরে সিনিয়র শিক্ষক পদে উন্নীত হয়ে বেতন গ্রেড হবে ১১তম। প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের সুপারিশও করেছে কমিটি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

শিক্ষকদের ভিন্নমত এবং কর্মসূচি ঘোষণা

সহকারী শিক্ষকেরা সরকারের এ প্রস্তাব মানতে নারাজ। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বলেছেন, সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড ১১তম নির্ধারণের দাবি তাঁরা আদায় করেই ছাড়বেন।

‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দাবি তিনটি হলো:
১. সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড ১১তম করা,
২. চাকরিতে ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীতকরণের জটিলতা নিরসন,
৩. শতভাগ পদোন্নতিতে প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীতকরণ।

এ দাবিগুলোর বাস্তবায়নে সরকারকে ৪ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দাবির পূরণ না হলে ৫ মে থেকে শুরু হবে পর্যায়ক্রমে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, অর্ধদিবস এবং শেষে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি।

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র শেখ মোহাম্মদ ছায়িদ উল্লা বলেছেন, আদালতের রায়ের আলোকে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা প্রদান অবশ্যই ইতিবাচক। তবে তা কেবল রিট আবেদনকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য নয়, বরং সব প্রধান শিক্ষকের জন্য কার্যকর করতে হবে।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এই মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। তা না হলে তাঁদের মধ্যে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সর্বশেষ ২০২০ সালে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্ন গ্রেড নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে সরকারি সিদ্ধান্ত ও শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।