ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতে নৃশংশভাবে খুন হয়েছেন মেহেদি হাসান রাকিব (২৮) এক যুবদল কর্মী। মেহেদিকে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা-মুখ থেতলে হত্যা করা হয়। এছাড়াও এক যুবক গুলিবৃদ্ধ হয়।
ফসলি জমির মাটি কেটে নেয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার (১৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে নিগুয়ারী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী বাজার পল্টনমোড়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব তললী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য ইয়াছিন খান, ফরিদ খা, জিয়া মৃধার সাথে ফসলি জমির মাটি কাটা নিয়ে বিরোধ চলছিল যুবদলকর্মী মেহেদি হাসান রাকিবের। এ নিয়ে ত্রিমোহনী পল্টনমোড়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাকিবকে বিএনপি নেতা ইয়াছিন, ফরিদ খা, জিয়া মৃধা ও তাদের লোকজন পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা থেতলে হত্যা করে দাবী নিহতের পরিবারের লোকজনের। এ সময় সাবিদ নামে আরেক যুবক গুলিবৃদ্ধ হয়।
নিহত রাকিবের বাবা মজিবর রহমান ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আমার দেশকে জানান, তার ফসলি জমি থেকে বিএনপি নেতা ইয়াছিন, জিয়াসহ আরও কয়েকজন মাটি কেটে নিচ্ছিল। এ সময় তার ছেলে রাকিব বাধা দেয়। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিল তাঁরা। পরে সোমবার রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাকিবকে ইয়াছিন, জিয়া, ফরিদ ও তাদের লোকজন ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেতলে নির্মমভাবে হত্যা করে। তিনি আরও বলেন এরা নিগুয়ারী ইউনিয়নে অনেক মাছের খামার দখলে করেছে। চাঁদাবাজিই এদের পেশা। হত্যার সাথে জড়িত সকলেই পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর অনুসারী।
নিহতের বড় বোন মনিরা ও ছোট বোন সায়মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বিএনপি করার কারণে আওয়ামীলীগের সময়ে অস্ত্র দিয়ে আমার ভাইকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। যে বিএনপির জন্য এতো কষ্ট করল এখন সেই বিএনপি নেতারাই আমার ভাইটার জীবন কেড়ে নিল। এ ব্যাপারে পাগলা থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ইয়াছিনসহ যাদের নাম আসছে এরা হত্যা সাথে জড়িত কিনা এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।






