কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। দুই দেশের উদ্দেশে তিনি সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গুতেরেসের এই বার্তা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর জাতিসংঘ নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মহাসচিব অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
ডুজারিক আরও বলেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মহাসচিব ভারত ও পাকিস্তানকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “দ্বিপক্ষীয় যেকোনো জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সম্পৃক্ততা ও অর্থবহ সংলাপের পথেই এগোনো উচিত।”
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামের বৈসারণ উপত্যকায় বন্দুকধারীদের এক হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৫ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালি নাগরিক ছিলেন। ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানভিত্তিক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ২৩ এপ্রিল ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেয়—যেমন পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল, দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি কূটনীতিকের সংখ্যা কমানো, আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া এবং সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানও ভারতের নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে, ভারতীয় কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্থগিত করে দেয়। একইসঙ্গে ভারতের উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ।
এমন পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় এক ধরনের অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা সামরিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিবের শান্তির আহ্বানকে একটি কূটনৈতিক সমাধানের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা






