জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রীমণ্ডলীর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার নিজ দলের এক নারী সদস্যকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সাংগঠনিক বিপদের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দলীয় যুগ্ম সদস্যসচিব (দফতর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, তুষারের বিরুদ্ধে “নৈতিক স্খলনজনিত” অভিযোগ উঠেছে, যা দলের ভাবমূর্তির পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এনসিপি। একইসঙ্গে, কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ ও তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত চলাকালীন তুষারকে দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব মো. আখতার হোসেনের যৌথ নির্দেশনায় তাকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপির অনেক কর্মী ও সমর্থক সরোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরেও ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
এটি এনসিপির জন্য সাম্প্রতিক সময়ে চতুর্থ বড় ধরনের বিতর্ক, যেখানে নেতাদের আচরণ দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে তুলেছে। এর আগে একাধিক নেতাকে বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য শোকজ করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের আরও গ্রহণযোগ্য ও গণমুখী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে নারী সহকর্মীর প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
তুষার নিজে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড।






