দাবি আদায়ের নামে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ( ১৫ মে) সকাল ১০ টা থেকে ঈশ্বরদী স্টেশন রোডের প্রাণকেন্দ্র ফকিরের বটতলায় বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈশ্বরদী সচেতন নাগরিক সমাজ আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে ঈশ্বরদীর সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। এতে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ঈশ্বরদী সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এনপিপিসিএল কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী দাবি আদায়ের নামে প্রকল্প এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এই অবস্থায় প্রকল্প চালু করে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে ঈশ্বরদীবাসী দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রকল্পকে বন্ধ করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে । আমরা যতদূর জানি,এমনিতেই নানা কারণে রুপপুর প্রকল্প হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রীডে সরবরাহের কাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ৯৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই গ্রীডের সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হবার কথা। এরপর ডিসেম্বরে স্টার্টআপ করার কথা। এই অবস্থায় প্রকল্প এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা অশুভ সংকেত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকারী রাশিয়ার মূল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ( এএসই), সাব -ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিকিমথ, টেস্ট রোসেম, ইএসকেইম, এএমটি, রুইনওয়ার্ল্ডসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির রাশিয়ান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই অভিযোগ করে বলেন যে দাবি আদায়ের নামে এভাবে প্রকল্পের ভেতরে বাঙ্গালীদের উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলাময় কর্মসূচি পালন করতে দেখে তারা নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঈশ্বরদী রূপপুর পারমানিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে রাশিয়ানসহ বিদেশীদের আগমনে ঈশ্বরদীর আর্থসামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার এবং প্রকল্পের দেশীয় প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। রূপপুর প্রকল্প ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
আমরা যতদূর জানতে পেরেছি , এনপিসিবিএল -এ যোগদানকারী একজন গ্রাজুয়েট কর্মকর্তা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় এক লাখ বিশ হাজার টাকা বেতন পায়। এরপরও দাবি আদায়ের আন্দোলনের নামে কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী এই প্রকল্পকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশ ও পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, এস এম আলমগীর, আমিনুর রহমান স্বপন, শামসুজ্জামান পীপপু, আনোয়ার হোসেন জনি, আবু সায়ীদ লিটন, ইমরুল কায়েস সুমন, রফিকুল ইসলাম রকি, রফিকুল ইসলাম নয়ন, শামীম আরা সাথী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত আরও আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরখাস্তকৃতদের প্রকল্প এলাকা ও আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ মে) কেন্দ্রের রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক চিঠিতে এ তথ্য জানান।
তারা হলেন, এনপিসিবিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক ইখতিয়ার উদ্দিন, শামীম আহম্মেদ, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মো. গোলাম, ঊর্ধ্বতন সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মনির, ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী গোলাম আজম, টেকনিশিয়ান রিয়াজ উদ্দিন ও ইসমাইল হোসেন।
নোটিশে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ও এনপিসিবিএলে শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে ছিলেন তারা। তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সেটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে ) রাতে রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের জেরে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর কয়েকদিন আগেও ১৮ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি (টার্মিনেশন) দেওয়া হয়।






