সিলেট সীমান্তে ভারতের কারফিউ, রাতে চলাচল নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সিলেটসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করেছে দেশটির প্রশাসন। ৮ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই নির্দেশনার আওতায় প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মেঘালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম জয়ন্তিয়া হিলস, পূর্ব খাসি হিলস, দক্ষিণ ও পশ্চিম গারো হিলস জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে ‘নিরাপত্তা সংবেদনশীল’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত, অস্ত্র বা লাঠিসোঁটা বহন, গবাদিপশু ও চা পাতা, সুপারি, পানের পাতা, শুকনা মাছসহ যেকোনো ধরনের পণ্য পরিবহন এবং সীমান্ত পারাপার বা অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার তামাবিল সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাধার মুখে পড়ে। স্থানীয়দের আপত্তিতে ওই কার্যক্রম স্থগিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার পরই ভারত সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা তাওহীদুল ইসলাম বলেন, “যারা বৈধভাবে চলাফেরা করি, আমাদের জন্য এটা তেমন সমস্যা নয়। তবে যারা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য এটা কঠিন হবে।”
অন্যদিকে জৈন্তাপুর উপজেলার মো. সাজু হোসেন বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই দরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত যেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায়, তা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই খুব ভোরে মাঠে কাজ করতে যান।”

সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, “এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়। আমরা অবগত আছি এবং সীমান্ত এলাকায় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

সিলেট সীমান্তে ভারতের কারফিউ, রাতে চলাচল নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

সংগৃহীত

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সিলেটসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করেছে দেশটির প্রশাসন। ৮ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই নির্দেশনার আওতায় প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মেঘালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম জয়ন্তিয়া হিলস, পূর্ব খাসি হিলস, দক্ষিণ ও পশ্চিম গারো হিলস জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে ‘নিরাপত্তা সংবেদনশীল’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত, অস্ত্র বা লাঠিসোঁটা বহন, গবাদিপশু ও চা পাতা, সুপারি, পানের পাতা, শুকনা মাছসহ যেকোনো ধরনের পণ্য পরিবহন এবং সীমান্ত পারাপার বা অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার তামাবিল সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাধার মুখে পড়ে। স্থানীয়দের আপত্তিতে ওই কার্যক্রম স্থগিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার পরই ভারত সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা তাওহীদুল ইসলাম বলেন, “যারা বৈধভাবে চলাফেরা করি, আমাদের জন্য এটা তেমন সমস্যা নয়। তবে যারা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য এটা কঠিন হবে।”
অন্যদিকে জৈন্তাপুর উপজেলার মো. সাজু হোসেন বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই দরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত যেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায়, তা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই খুব ভোরে মাঠে কাজ করতে যান।”

সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, “এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়। আমরা অবগত আছি এবং সীমান্ত এলাকায় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।