মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শনিবার (স্থানীয় সময়) দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একযোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যার নাম দেওয়া হয় “৫০৫০১”— অর্থাৎ ৫০টি রাজ্যে ৫০টি বিক্ষোভ, একক আন্দোলন।
বিক্ষোভকারীরা একে ‘স্বাধীনতার জন্য নতুন লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করছেন। আন্দোলনের সময় অনেকেই হাতে তুলে নেন ‘No Kings’ লেখা পোস্টার, যা আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অভিবাসন ইস্যু ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ। বিশেষ করে “ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডিওজিই)” নামে একটি প্রকল্প, যার আওতায় ব্যয় কমানো ও সরকারি চাকরির সংখ্যা হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে—তা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, এই প্রকল্প গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি।
বিক্ষোভে উঠে আসে কিলমার আবরেগো গার্সিয়া নামের এক মার্কিন অভিবাসীর বিষয়ও, যাকে ভুলবশত এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে ছিলেন অনেকেই।
ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রস্থলে এবং এমনকি কিছু টেসলা শোরুমের সামনেও বিক্ষোভ হয়। বেশিরভাগ জায়গায় শান্তিপূর্ণ থাকলেও কোথাও কোথাও উত্তেজনা দেখা দেয়। একটি ঘটনায় ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামানিয়াম এক ট্রাম্প-সমর্থকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। গ্যালাপের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে তার সমর্থন ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৪৭ শতাংশ। তুলনায় ১৯৫২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রথম কোয়ার্টারে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের গড় জনপ্রিয়তা ছিল ৬০ শতাংশ।
অর্থনীতিতেও রয়েছে অসন্তোষ। রয়টার্স/ইপসোসের আরেক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে সন্তুষ্টির হার নেমে এসেছে ৩৭ শতাংশে— যা জানুয়ারিতে ছিল ৪২ শতাংশ।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলন নয়। মাসের শুরুতে “হ্যান্ডস অফ” আন্দোলনের আওতায় ১,২০০টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত বলে ধরা হচ্ছে।






