কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত যেসব কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তা উপমহাদেশে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এই হামলার জবাব ‘কঠোরভাবেই’ দেওয়া হবে। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের এই ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে দিল্লি সে দাবি মানছে না।
ভারতের পাঁচ দফা প্রতিক্রিয়া যা নতুন সংকট তৈরি করেছে:
১. সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পানিচুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। পাকিস্তানের কৃষি ও পানীয় জলের ওপর এই চুক্তির প্রভাব বিশাল, ফলে এটি বড় ধাক্কা।
২. আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ
ভারতের অন্যতম ব্যস্ত সীমান্ত চেকপোস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতে প্রবেশ করা পাকিস্তানি নাগরিকদের ১ মে’র মধ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. পাকিস্তানি নাগরিকদের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ও ভিসা বাতিল
ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানি নাগরিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত ‘সার্ক’ ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন ভিসা ইস্যু স্থগিত রয়েছে।
৪. প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার
দিল্লি ও ইসলামাবাদে অবস্থানরত প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. দূতাবাস কর্মী হ্রাস
ভারতের ইসলামাবাদ দূতাবাসে কর্মকর্তা সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ১ মে থেকে।
পাকিস্তানের পাল্টা পরিকল্পনা
এই সিদ্ধান্তগুলোর জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করেছেন, যেখানে শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতারা অংশ নেবেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ভারতের আচরণকে ‘উসকানিমূলক ও দায়িত্বহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই বৈঠকে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সূত্র: দ্য ওয়াল, দ্য ডন






