আফগান নাগরিকদের তাড়াচ্ছে পাকিস্তান​!

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান সরকার ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আফগান নাগরিক কার্ড (ACC) ধারকদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাল্লাল চৌধুরী জানিয়েছেন, এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। যারা তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্যও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে বিশেষ মামলাগুলো বিবেচনা করা হতে পারে।​

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পাকিস্তান অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তিন ধাপে অভিযান শুরু করে। প্রথমে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ACC ধারকদের এবং তৃতীয় পর্যায়ে নিবন্ধনের প্রমাণ (PoR) কার্ডধারীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮,৫৭,১৫৭ জন অবৈধ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।​

পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, আফগান নাগরিকরা দেশটিতে মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত। এই প্রেক্ষিতে, পাঞ্জাবে ৩৮টি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৩টি, সিন্ধুতে ২টি, আজাদ কাশ্মীরে ৩টি এবং বেলুচিস্তান, ইসলামাবাদ ও গিলগিট-বালতিস্তানে ১টি করে ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসিসি হোল্ডারদের জন্য আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা সেবা এবং পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।​

চৌধুরী আরও জানান, যারা ইউএনএইচসিআর-এ নিবন্ধিত নন বা তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের অপেক্ষায় নেই, তাদের ট্র্যাক করে ফেরত পাঠানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।​

এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, আফগান নারী শরণার্থীরা পাকিস্তানে দুর্ব্যবহার ও পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের হয়রানি করছে এবং বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। এছাড়া, অনেক আফগান নাগরিকের ভিসার মেয়াদ শেষ না হলেও তাদের জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে।​

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের ফলে আফগান শরণার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তারা নিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

আফগান নাগরিকদের তাড়াচ্ছে পাকিস্তান​!

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

পাকিস্তান সরকার ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আফগান নাগরিক কার্ড (ACC) ধারকদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাল্লাল চৌধুরী জানিয়েছেন, এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। যারা তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্যও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে বিশেষ মামলাগুলো বিবেচনা করা হতে পারে।​

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পাকিস্তান অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তিন ধাপে অভিযান শুরু করে। প্রথমে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ACC ধারকদের এবং তৃতীয় পর্যায়ে নিবন্ধনের প্রমাণ (PoR) কার্ডধারীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮,৫৭,১৫৭ জন অবৈধ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।​

পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, আফগান নাগরিকরা দেশটিতে মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত। এই প্রেক্ষিতে, পাঞ্জাবে ৩৮টি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৩টি, সিন্ধুতে ২টি, আজাদ কাশ্মীরে ৩টি এবং বেলুচিস্তান, ইসলামাবাদ ও গিলগিট-বালতিস্তানে ১টি করে ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসিসি হোল্ডারদের জন্য আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা সেবা এবং পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।​

চৌধুরী আরও জানান, যারা ইউএনএইচসিআর-এ নিবন্ধিত নন বা তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের অপেক্ষায় নেই, তাদের ট্র্যাক করে ফেরত পাঠানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।​

এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, আফগান নারী শরণার্থীরা পাকিস্তানে দুর্ব্যবহার ও পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের হয়রানি করছে এবং বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। এছাড়া, অনেক আফগান নাগরিকের ভিসার মেয়াদ শেষ না হলেও তাদের জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে।​

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের ফলে আফগান শরণার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তারা নিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা করছেন।