আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনয়শিল্পী হিরো আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার তৃতীয় স্ত্রী রিয়া মনি ও বার ড্যান্সার ম্যাক্স অভি রিয়াজকে গ্রেফতার করেছে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ। রবিবার (২২ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য নিজেই জানিয়েছেন হিরো আলম।
হিরো আলম তার ফেসবুক প্রোফাইলে একাধিক ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় রিয়া মনি ও অভি রিয়াজকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে। ভিডিওতে জনতার রোষানলে পড়ে তাদেরকে গণধোলাই দিতে দেখা যায়। অনেকেই ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
পুরনো বিরোধ, নতুন উত্তেজনা
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল শনিবার, যখন হিরো আলম তার প্রাক্তন স্ত্রী রিয়া মনির রামপুরার উলন রোড এলাকার বাসায় উপস্থিত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানেই হিরো আলমের ওপর চড়াও হন রিয়া ও অভি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে হিরো আলমকে মারধর করতে দেখা গেছে।
এলাকাবাসীর ভুমিকা
হিরো আলমের ব্যক্তিগত সহকারী জানান, রিয়া মনির এই বাসাটি আসলে হিরো আলমই ভাড়া নিয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই বাড়ি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হিরো আলমের সঙ্গে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। মূলত, রিয়া মনির বাসায় নিয়মিতভাবে অবস্থান করতেন অভি রিয়াজ, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমছিল।
এক পর্যায়ে হিরো আলম নিজেই শনিবার বাসায় যান এবং অভি রিয়াজকে সেখানে উপস্থিত অবস্থায় হাতেনাতে ধরেন। তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রিয়া মনি ও অভি রিয়াজ মিলে হিরো আলমকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে দুজনকে ধরে গণধোলাই দেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ ডেকে সোপর্দ করেন।
পুলিশের অভিযান ও গ্রেফতার
এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মধ্যরাতেই পুলিশ অভিযান চালায় এবং রিয়া মনি ও ম্যাক্স অভিকে আটক করে হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায়। আজ (রবিবার) সকালে তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে থানা সূত্র।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে রিয়া মনির আচরণের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ হিরো আলমের জীবনযাত্রা ও সম্পর্কগুলোর ওপরও প্রশ্ন তুলেছেন।
অতীতের টানাপোড়েন
এটা প্রথম নয়, যখন হিরো আলম ও রিয়া মনির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলো। এর আগেও সামাজিক মাধ্যমে একে অপরকে ঘিরে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে দেখা গেছে তাদের।
এক সময় রিয়া মনি হিরো আলমকে ‘মানসিকভাবে অস্থির’ বলে দাবি করেছিলেন, যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
হিরো আলমের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর হিরো আলম বলেন,
> “আমি বারবার চেয়েছি, ও যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। কিন্তু অভি রিয়াজের সঙ্গে ওর সম্পর্ক এলাকাবাসী মেনে নিতে পারেনি। তাই ওরা আমাকে মারধর করেছে, কিন্তু জনগণ বুঝে ফেলেছে আসল সত্য।”
তিনি আরও বলেন,
> “এই ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক কোনো সমাজেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।”
রিয়া মনিকে ‘বয়কট’ ঘোষণা
গত কয়েকদিন ধরে রিয়া মনিকে নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় হিরো আলম সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘ব্যক্তিগতভাবে ও পেশাগতভাবে’ বয়কট করার ঘোষণা দেন।
আদালতের দিকে নজর
রিয়া মনি ও অভি রিয়াজ বর্তমানে হাতিরঝিল থানায় পুলিশ হেফাজতে আছেন। আজ তাদের আদালতে হাজির করা হবে। আদালত কী নির্দেশ দেন, কিংবা জামিন মঞ্জুর হয় কি না—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ মন্তব্য করছেন। কারো মতে, এটি একটি ‘পারিবারিক সংকটের জঘন্য প্রকাশ’, আবার কারো মতে, ‘গণধোলাই’র মতো ঘটনার আগে বিষয়টি আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল।
বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে হিরো আলম প্রায়শই আলোচনায় থাকেন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সম্পর্ক নিয়ে। রিয়া মনির সঙ্গে তার এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ আবারও প্রমাণ করলো—তার ব্যক্তিগত জীবন যতটা নাটকীয়, ঠিক ততটাই তা সামাজিক ও আইনি জটিলতায় জড়িত।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হওয়া আলোচনার বহর প্রমাণ করে—বিনোদন দুনিয়ার নায়ক-নায়িকারা শুধু পর্দার নন, বাস্তব জীবনের কাহিনিও জনমনে তুমুল আগ্রহ তৈরি করে।






