আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কিস্তি ছাড়ে দেরির কারণ হিসেবে নীতিগত মতপার্থক্য এবং কিছু আর্থিক অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তবে এ বিষয়ে দ্রুত আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন গভর্নর। সভায় সভাপতিত্ব করেন কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মনসুর বলেন, ব্যাংকিং খাতে বিগত সরকারের অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। লুটপাটের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে, কিন্তু তা অসম্ভব নয়। অর্থপাচার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে সহায়তা করছে। এ লক্ষ্যে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ডিজিটাল ব্যাংকের প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি বলেন, আগের সিদ্ধান্তে বিকাশকে অনুমোদন না দিয়ে নগদকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল, যা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তবে বর্তমানে নগদ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকায় তা বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
রিজার্ভ হ্যাকিং মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে এখনো মামলা চলছে এবং ফেডারেল রিজার্ভ বাংলাদেশের পাশে আছে। সুইফটের সঙ্গে বর্তমানে অন্য কোনো সিস্টেম যুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।
ব্যাংকের শেয়ারধারীদের পরিবারের সদস্যদের পরিচালনা পর্ষদে রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি জানান, ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টরের সংখ্যা ৫০/৫০ করা হবে এবং এজন্য একটি প্যানেল গঠন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন মুদ্রা ছাপানো প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। কমপক্ষে ১৮ মাস থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। ভারতের পুরোনো নোট বাতিলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সে ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে তার সময়ে হবে না।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনুভব করেননি বলেও জানান ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবেই কাজ করতে পারবে।
সভায় প্রবাসী ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতা এবং রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভার আগে রেমিটার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও একটি পৃথক সভায় অংশ নেন গভর্নর।






