আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বদলীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে তৎপর হয়েছে বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি এখন সব রাজনৈতিক দল—ডান, বাম, প্রগতিশীল ও ইসলামি—সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
এই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৯ এপ্রিল) ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। বৈঠকে ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির আলোচনার বিষয়বস্তু, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অসন্তোষ এবং আদান-প্রদানের চিঠি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
১২ দলীয় জোটের নেতাদের মতে, বিএনপি ডিসেম্বরকে নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করতে চায় এবং এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক মত ও জনগণের সমর্থন গড়ার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে রবিবার সিপিবি ও বাসদসহ বাম দলগুলোর সঙ্গে চা-চক্রে মিলিত হবে বিএনপি।
জোটের অন্যতম নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, “ডিসেম্বরের পরে দেশে দুর্যোগ, রমজান, বর্ষা ইত্যাদি কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অজুহাত তৈরি হতে পারে। এটি একটি সুপরিকল্পিত depoliticisation-এর ষড়যন্ত্র, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে থমকে দিতে পারে।”
বিএনপি মনে করছে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঐক্য ও জনমত তৈরি করাই এখন প্রধান কাজ। তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ কিছু ইসলামি দল নির্বাচন পিছিয়ে সংস্কারের দাবিকে আগে তুলে ধরছে। যদিও এসব দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিএনপি আজ গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গেও বৈঠকে বসছে। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে, যা উল্টো ফল বয়ে আনবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা এই সরকারকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশায় সমর্থন দিয়েছি। আন্দোলন নয়, আমরা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে চাই।”
সব দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার পর বিএনপি একটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে বলে জানিয়েছে দলটি।






