জাতীয় নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্বাচন জুনের পরে হলেও জুলাই বা আগস্টে নয়, বরং ডিসেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ‘দি ইকোনমিস্ট’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তবে তিনি নিজে এই নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকখাতকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনও দুর্বল, আর রাজনৈতিক পরিবেশও অস্থির। তিনি বলেন, “বিপ্লবের নয় মাস পরও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ‘ঐকমত্য কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হবে, যা নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করবে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতৈক্যে পৌঁছানোই মূল চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মহলের দাবি অনুযায়ী একাধিক কমিশন গঠিত হয়েছে, তবে সব খাতকে কাভার করা সম্ভব হয়নি। যেমন, কেউ কেউ তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে একটি পৃথক কমিশন চাইলেও তা হয়নি। শিক্ষাখাতকেও অনেকের মতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বড় বিতর্ক দেখা দিয়েছে নারী সংস্কার কমিশন নিয়ে, যেটি ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তনের সুপারিশ করে নারীদের অধিক অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দিলে ইসলামপন্থি দলগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ১২ মে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করায় তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের সময়সূচি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী কার্যক্রম ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।






