সরকারি পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার আগে নির্বাচন সংক্রান্ত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রবিবার (২০ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ২টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠকে এই পরামর্শ দেয় এনসিপি প্রতিনিধি দল।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, দল নিবন্ধন বিধি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে সিইসি কিছু বলেছেন কিনা—এমন প্রশ্নে পাটওয়ারী জানান, সিইসি এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেননি, তবে কমিশনের অন্য কেউ কিছু বলে থাকলেও তা এনসিপির জানা নেই। তিনি বলেন, “সরকারের তরফ থেকে কোনো ঘোষণা আসার আগে কমিশনের দায়িত্বশীলদের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়, এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।”
দলীয় নিবন্ধনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, নতুন দল হিসেবে এনসিপির এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। দল গোছানোর পাশাপাশি, দলীয় সদস্যদের মধ্যে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী চক্র ঢুকে না পড়ে, সেজন্য যাচাই-বাছাই চলছে।
নিবন্ধনের সময় বাড়াতে গত ১৭ এপ্রিল কমিশনে একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে সিইসি বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে বিভিন্ন নামে বা একই নামে একাধিক দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, যা অনিয়মের উদাহরণ। ২০২২ সালের সার্চ কমিটি নিয়ে তাদের আপত্তিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এনসিপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বিগত নির্বাচনে যারা জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সমাজের শুদ্ধ ধারার মানুষ—যেমন শিক্ষক ও ইমামরা—নির্বাচনে অংশ নিতে যেন সুযোগ পান, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফলের সনদ দিতে হবে এবং গেজেট প্রকাশের পরও যদি জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিজয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
ভোটে পেশিশক্তি ও অর্থব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নির্বাচন ব্যয় ও আচরণবিধি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
ঋণ খেলাপিদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া এবং ভোট কেনাবেচা প্রতিরোধের দিকেও কমিশনের নজর চেয়েছে এনসিপি।
পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে পাটওয়ারীর সঙ্গে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও তাজনূভা জাবীন।






