বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠক শেষে ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এর বাইরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান ব্যাখ্যা করে শফিকুল বলেন, “ড. ইউনূস বারবার বলে আসছেন যে, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এখন তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—৩০ জুনই চূড়ান্ত তারিখ। তিনি এক কথার মানুষ, এর বাইরে যাবেন না।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে, জামায়াত জানিয়েছে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে, এবং এনসিপি জোর দিয়েছে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিতে। এ ছাড়া এনসিপি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনেরও দাবি জানিয়েছে।
তবে সবকটি দলই প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তার নেতৃত্বেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন চায় বলে মত দিয়েছে। শফিকুল বলেন, “তারা সবাই প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে নির্বাচন চায়। তাকে অনুরোধ করেছে যেন তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করেন।”
তিনি আরও বলেন, “সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেছে, তবে এককথায় সবাই তার নেতৃত্বে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।”
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব জানান, জুলাই মাসের সেনা হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়াও এ মাসের মধ্যেই শুরু হবে।
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের আমলে হওয়া নির্বাচনগুলোকে অবৈধ ঘোষণার দাবি তুলে ধরেছে জামায়াত ও এনসিপি, যা শাসকদলের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা দেখার বিষয়।






