রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত শ্রম ভবনের সামনে সোমবার (১৯ মে) সকাল থেকে জড়ো হয়েছেন শত শত পোশাক শ্রমিক। সকাল ৮টার আগেই তারা ভবনের প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার লাগিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশ রোধ করেন। আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে গতকাল রোববার (১৮ মে) রাতেও অনেক শ্রমিক সেখানে অবস্থান করেন। আজ সকালে তাদের সঙ্গে আরও অনেক শ্রমিক খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন।
শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেল ৫টায় তারা সরকার ও মালিকপক্ষকে পাঁচ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তবে রাত ১০টা পেরিয়ে গেলেও কোনও আশ্বাস মেলেনি। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া শ্রম ভবনে কোনও কর্মকর্তা ঢুকতে পারবেন না।
শ্রমিকদের ভাষ্য, গত ২৯ মার্চ সরকারের মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ ১৭ কোটি টাকা পাওনার বিপরীতে ৩ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেওয়া হয় ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যা পেতেও শ্রমিকদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
এর আগে, গত ১০ মে শ্রম ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা জানান, ৭ মে’র মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধের কথা থাকলেও মালিকপক্ষ তা করেনি। ফলে তারা আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
১১ মে গাজীপুরে ও ১২ মে বিজয়নগরে তারা বিক্ষোভ করেন। তাতেও কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় রোববার বিকেলে আবারও সমাবেশ হয় এবং পাঁচ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
শ্রমিকরা আরও জানান, ৮ এপ্রিল শ্রম সচিবের সভাপতিত্বে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে তারা অংশ নেন। সেই বৈঠকে পূর্ব নোটিশ ছাড়া কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২২ এপ্রিল কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ৭ মে’র মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
এ অবস্থায় শ্রমিকরা দাবি করছেন—অবিলম্বে বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।






