জামায়াতের ব্যানারে সব ধর্মের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবে: আমীর

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

সব ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জামায়াত- এমনটাই জানিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দলটির ব্যানারে শুধুমাত্র মুসলিম নয়, বরং যে কোনো সৎ, যোগ্য, নীতিবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক নির্বাচন করতে পারবেন।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকায় আয়োজিত এক আন্তধর্মীয় প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত এসব তথ্য জানায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নয়, যোগ্যতা বিবেচনায় যেকোনো আসনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে অনেক দল নির্বাচনী ইশতেহারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবিগুলো রাখলেও বাস্তবায়ন করেনি—এটা একপ্রকার প্রতারণা।

তিনি দাবি করেন, “জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে মিল রেখে রাজনীতি করে। সনাতনী সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবিসহ সব যৌক্তিক দাবি পূরণে আমরা কাজ করব।”

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ মিলে একটি সুন্দর ফুলের বাগান গড়ে তুলেছে। “এই বাগানে কোনো হুতুম প্যাঁচার প্রবেশ আমরা মেনে নেব না,”—বলে তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাজনৈতিক প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন।

তিনি আরও বলেন, “যাদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল আছে, তাদেরকেই সমর্থন দেওয়া উচিত। যদি জামায়াতে ইসলামীর মাঝে সেই মিল দেখতে পান, তবে আমাদের পাশে থাকুন।”

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর জামায়াত কখনো জুলুম করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কারা করেছে, তারা কার মুখোশ পরে আছে—তা উন্মোচনের আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের নাম করে যারা হিন্দুদের সম্পদ দখল করেছে, তাদের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রকাশ করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “যেমনভাবে মসজিদ পাহারা দিতে হয় না, তেমনভাবে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ও নিরাপদ থাকবে। ইসলামী রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।”

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শুধু নিজের দিক থেকে না দেখে সমাজের চারদিক থেকে দেখতে হবে। তা না হলে ভুল হবে, ক্ষতি হবে, এবং একদিন পালিয়ে যেতে হতে পারে।”

প্রীতি সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দ্বীনবন্ধু রায়, খ্রিস্টান পাস্তর তনান রায়, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের অনুপম বড়ুয়া প্রমুখ।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

জামায়াতের ব্যানারে সব ধর্মের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবে: আমীর

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

সব ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জামায়াত- এমনটাই জানিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দলটির ব্যানারে শুধুমাত্র মুসলিম নয়, বরং যে কোনো সৎ, যোগ্য, নীতিবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক নির্বাচন করতে পারবেন।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকায় আয়োজিত এক আন্তধর্মীয় প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত এসব তথ্য জানায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নয়, যোগ্যতা বিবেচনায় যেকোনো আসনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে অনেক দল নির্বাচনী ইশতেহারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবিগুলো রাখলেও বাস্তবায়ন করেনি—এটা একপ্রকার প্রতারণা।

তিনি দাবি করেন, “জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে মিল রেখে রাজনীতি করে। সনাতনী সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবিসহ সব যৌক্তিক দাবি পূরণে আমরা কাজ করব।”

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ মিলে একটি সুন্দর ফুলের বাগান গড়ে তুলেছে। “এই বাগানে কোনো হুতুম প্যাঁচার প্রবেশ আমরা মেনে নেব না,”—বলে তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাজনৈতিক প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন।

তিনি আরও বলেন, “যাদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল আছে, তাদেরকেই সমর্থন দেওয়া উচিত। যদি জামায়াতে ইসলামীর মাঝে সেই মিল দেখতে পান, তবে আমাদের পাশে থাকুন।”

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর জামায়াত কখনো জুলুম করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কারা করেছে, তারা কার মুখোশ পরে আছে—তা উন্মোচনের আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের নাম করে যারা হিন্দুদের সম্পদ দখল করেছে, তাদের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রকাশ করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “যেমনভাবে মসজিদ পাহারা দিতে হয় না, তেমনভাবে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ও নিরাপদ থাকবে। ইসলামী রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।”

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শুধু নিজের দিক থেকে না দেখে সমাজের চারদিক থেকে দেখতে হবে। তা না হলে ভুল হবে, ক্ষতি হবে, এবং একদিন পালিয়ে যেতে হতে পারে।”

প্রীতি সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দ্বীনবন্ধু রায়, খ্রিস্টান পাস্তর তনান রায়, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের অনুপম বড়ুয়া প্রমুখ।