ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। হামলায় দেশটির দুই শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি ও ফারেইদুন আব্বাসিও নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার ভোররাতের এই হামলা পরিচালনা করে ইসরায়েলি বাহিনী।দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও তেহরান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, এই হামলায় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় ধরে এই সামরিক অভিযান চলবে।
হামলার পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সম্পৃক্ত নয়। তবে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, কোনোভাবে যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়, তাহলে এর কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য—যেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেন—তার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটলো। যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও এক দফা উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরে এই হামলাকে যুদ্ধ ঘোষণার সামিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল বা ইরানের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে হোসেইন সালামির মৃত্যু নিশ্চিত হলে, এটি ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের ইতিহাসে একটি বড় বাঁক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






