পাকিস্তান সরকার দেশটিতে বসবাসকারী ৮০ হাজারেরও বেশি আফগান নাগরিককে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠানোর চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা তালাল চৌধুরি জানিয়েছেন, কেবল বৈধ কাগজপত্র থাকা আফগানরাই পাকিস্তানে থাকতে পারবেন। বাকিদেরকে হয় স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে হবে, না হয় সরকার কর্তৃক জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত হতে হবে। এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা চলতি মাসের শেষ দিন, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তোরখাম সীমান্ত দিয়ে এসব অবৈধ অভিবাসীদের আফগানিস্তানে পাঠানো হচ্ছে। ফেরত পাঠানোর আগে তাদের অস্থায়ী শিবিরে রাখা হচ্ছে।
এর আগে ইসলামাবাদ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, যেসব আফগান নাগরিক বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের ৩১ মার্চের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। পরে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল করা হয়।
২০২৩ সালে শুরু হওয়া অবৈধ বিদেশিদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের আওতায়ই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কাবুল বলছে, বাস্তবে তাদের নাগরিকদের জোর করে বের করে দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে সবচেয়ে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠী হলো আফগানরা। ইসলামাবাদ প্রায়ই দেশটির ভেতরে সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলা ও অপরাধের জন্য তাদের দায়ী করে আসছে। তবে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে।
এদিকে চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে কাবুল সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইছহাক দার। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।






