গাজায় ইসরায়েলি হামলা তখনই বন্ধ হবে, যখন হামাস বাকি সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে—এমনই সাফ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান জিম্মি মুক্তিদূত অ্যাডাম বোয়েলার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
১৬ এপ্রিল দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোয়েলার বলেন, “আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, যেদিন জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে, সেদিনই যুদ্ধ থেমে যাবে।” তাঁর ভাষ্য, দায়িত্ব এখন হামাসের কাঁধে।
হোয়াইট হাউজে দেওয়া এক পৃথক বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধের ইতি টানতে পারে একমাত্র হামাস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সব বন্দি মুক্ত না হবে, ততক্ষণ কিছুই এগোবে না।”
বোয়েলার জানান, প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো—সব জিম্মিকে মুক্তি। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ‘পরবর্তী দিনের’ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও তিনি এই পরবর্তী দিনের কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি, বরং ট্রাম্পের পূর্ব প্রস্তাবের দিকে ইঙ্গিত করেন—যেখানে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক স্থানান্তরের প্রস্তাব ছিল।
অন্যদিকে, হামাস বলেছে, তারা তখনই আরও জিম্মি মুক্তি দেবে, যদি একটি নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে শর্ত থাকবে—ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ গাজা প্রত্যাহার, যা এখন পর্যন্ত অগ্রহণযোগ্য হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে।
পূর্ববর্তী ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাস ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়, বিনিময়ে গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো হয় এবং ইসরায়েলের হাতে বন্দি কিছু ফিলিস্তিনিও মুক্তি পায়।
পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ছিল সব অবশিষ্ট জীবিত জিম্মির মুক্তি এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। তৃতীয় ধাপে ছিল মৃত জিম্মিদের মরদেহ ফেরত ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
কিন্তু প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পরই আলোচনা ভেঙে পড়ে এবং ইসরায়েল পুনরায় হামলা শুরু করে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই নতুন হামলায় কমপক্ষে ৫ লাখ ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন অন্তত ১,৬৫২ জন।
ইসরায়েলি সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় ২৪ জন জীবিত জিম্মি রয়েছেন, যাদের সবাই পুরুষ সেনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আরও ৩৫ জন জিম্মির মরদেহ এখনও গাজায় রয়েছে।






