বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাগলা থানা শাখার সাবেক যুগ্ম আহবায়ক চমক ফকির। অপরদিকে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত চমক ফকিরের বড় ভাই মিলন ফকির। তিনি মশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক।
বিগত বছরগুলোতে মিলন ফকির ছিলেন বিএনপি নেতা-কর্মীদের মূর্তিমান আতঙ্ক। মিলন ফকিরের নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, হয়েছেন মামলা হামলার শিকার। মশাখালীতে মিলন ফকিরের মুখের কথাই ছিল শেষ কথা।
সেই আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূড়িভোজ করলেন ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম। এদিকে ভূড়িভোজের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় ভ‚রিভোজের ছবি ও ভিডিও।
ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাদের পোস্টে লিখেন বিএনপি নেতা-কর্মীদের এতো অত্যাচার নির্যাতনের পরও মিলন ফকিরের নামে এখনো হয়নি কোনো মামলা মোকদ্দমা। তার বাড়িটিও রয়েছে অক্ষত। আজ সেই বাড়ির সামনে প্যান্ডেল করে ব্যাপক ভূড়িভোজের আয়োজন করা হয়। আর দলবল নিয়ে খাবার খেলেন ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম।
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয় বিএনপির বহু নিহত ও আহত নেতা-কর্মীর রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। এমন অবস্থাতেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের যমদূতের বাড়িতে ঘটা করে ভূড়িভোজ কোনভাবেই করতে পারেন না আলমগীর মাহমুদের মতো জেলা বিএনপির এমন দায়িত্বশীল নেতা। এটা বহু নিহত ও আহত নেতা-কর্মীদের রক্তের সাথে বেইমানির সামিল। এ ঘটনায় স্তম্ভিত গফরগাঁওয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা।
এ সময় অসংখ্য নেতা-কর্মীকে অনেক পোস্টের কমেন্টবক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
এদিকে গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার তোপের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপি নেতা চমক ফকিরও কম চকম দেখাননি। মিলন ফকিরসহ আ.লীগের যে সকল নেতা-কর্মী বিএনপি নেতা-কর্মীদের মামলা হামলা করে বাড়ি-ঘর ছাড়া করেছেন সেসব আ.লীগের নেতা ও তাদের বাড়ি-ঘর বিএনপি নেতা চমক ফকিরের চমকে বরাবরের মতোই রয়েছে অক্ষত। কুখ্যাত সেইসব আ.লীগ নেতারা চমক ফকিরের চমকের বদৌলতে দিব্বি ভালো রয়েছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন দাপটের সাথে।
গত দুই বছর আগে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক ও পাগলা থানা বিএনপির আহবায়ক স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার ঈদ পূনঃমিলনী অনুষ্ঠানে আ.লীগ নেতা মিলন ফকিরের নেতৃত্বে হামলা হয়। ওই হামলায় বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আহত হন। সে হামলায় আহত অনেক নেতা-কর্মীকে এখনো নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সেই মিলন ফকিরসহ সেসব অত্যাচারী আওয়ামী সন্ত্রাসীরা চমকের আলোতে এখন আলোকিত। কেউ কেউ আবার চমকের হাত ধরে রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপি।
এ ব্যাপারে পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান ছুয়াদুর রহিম ভুলু ও আরেক সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সেখ বলেন, আমরা ভুড়িভোজের বিষয়টি প্রথমে নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারি। পরে ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল হয়। আলমগীর মাহমুদ ভাই তিনি জেলা বিএনপির অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক। তিনি বিএনপির আতঙ্ক মিলন ফকিরের বাড়িতে ভূড়িভোজে অংশ নেয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।






