বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা, রোহিঙ্গা সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে দৃঢ় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে এগিয়ে এসেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তিনি এখন একপ্রকার ত্রাতার ভূমিকায়।
সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবির ওপর চাপ কমাতে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুরো সীমান্ত অঞ্চলকে ‘মিলিটারি অপারেশনস জোন (এমওজেড)’ ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। বুধবার (২১ মে) ঢাকার সেনানিবাসে সকাল সাড়ে ১০টায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেনানিবাসে জেনারেল ওয়াকার তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত পরিস্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বৈঠকে সেনা কর্মকর্তারা যুদ্ধ পোশাক পরে অংশ নেন- যা এই বৈঠককে ভিন্নমাত্রা দেয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চলছে তৎপরতা। মঙ্গলবার ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিক এরিক গিলান ও মাইকেল ডিমিচেই সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ‘মানবিক করিডর’ চালুর আহ্বান জানান বলে জানা যায়। কিন্তু সেনাপ্রধান তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন। একইভাবে বিমান ও নৌবাহিনী প্রধানরাও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মতে, সীমান্তকে এমওজেড ঘোষণা করলে সেনাবাহিনী সেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে এবং বিজিবি দেশের অন্যান্য সীমান্তে অধিক কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
সূত্র জানায়, করিডর বিষয়ে এমন পদক্ষেপের পেছনে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে গোপনে সমর্থনের চেষ্টা করছে, যা চীন, ভারত ও রাশিয়ার স্বার্থে আঘাত হানতে পারে এবং বাংলাদেশকে এই সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
গত ১৯ মে জেনারেল ওয়াকার মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁকে মানবিক করিডরের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা চালানো হয়। এর আগে ১৮ মে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।
সবশেষে, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—১১ মে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও সেনাপ্রধান মোহাম্মদ ইউনূসের পরামর্শে তা বাতিল করেন, যা তাঁর জাতীয় স্বার্থে আপসহীন অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।






