প্রায় ১৫ বছর পর পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ। বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এক কর্মকর্তা জানান, সফরে দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় আলোচনায় আসবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আকাশপথে যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, কৃষি, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা—সবকিছুই আলোচনায় স্থান পাবে। পাশাপাশি সার্ক, ওআইসি, ডি-৮-এর মতো আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মেও সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হবে।
দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ষষ্ঠ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে দুই দেশের পক্ষেই আশাবাদী কূটনৈতিক মহল। সর্বশেষ এমন বৈঠক হয়েছিল ২০১০ সালে ইসলামাবাদে।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এবারের আলোচনায় সম্পর্ক দৃঢ় করার পাশাপাশি একটি যৌথ কমিশন পুনর্বহালের প্রস্তাব তুলতে পারে পাকিস্তান। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ মনে করে, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন ও সম্পদের হিস্যা পরিশোধ—এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি ছাড়া সম্পর্কের অগ্রগতি সম্ভব নয়। এক কূটনৈতিক বলেন, “সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা টেবিলে উঠতেই থাকবে।”
চলতি মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আমনা বালুচের সফরকালে সেই সফর নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।






