পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পাতারপোল গ্রামের তরুণ মহিউদ্দিন টিপু (৩০) কৃষি খাতে এক অনন্য নাম। জীবনে নানা প্রতিকূলতা আর সংগ্রাম পেরিয়ে এখন তিনি সফল সবজি চাষি।
এক সময় সরকারি চাকরির আশায় প্রতারণার শিকার হন মহিউদ্দিন। পরে ঢাকায় বায়িং হাউজে চাকরি নিলেও সেখানে মেলে না সম্মান কিংবা আর্থিক স্থিতি। অবশেষে স্ত্রী মোসাম্মাত ফাতেমার পরামর্শে গ্রামে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন।
শুরুতে মাত্র ২ শতাংশ জমিতে করলা চাষ শুরু করলেও এখন তার জমির পরিমাণ ১২০ শতাংশ। প্রতি সপ্তাহে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। শুধু করলাই নয়, তিনি চাষ করছেন লাউ, চিচিঙ্গা, টমেটো ও লাল শাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। ভবিষ্যতে মাছ চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে।
করলার বাজারদর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী করলা ৫০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের অনেক সময় কম দামে বিক্রি করতে হয়।
মহিউদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, শুরুর সময় টিউশনি ও সেলাইয়ের কাজ করে করলার বীজ, সার ও ওষুধ কিনতেন। এখন আল্লাহর রহমতে তারা স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষ শুরু করেন মহিউদ্দিন। ৫০ শতক জমি থেকে তিনি ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছেন। তার দেখাদেখি আরও অনেক কৃষক উচ্চমূল্যের সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।






