দুনিয়াজোড়া রাজত্ব করেছিলেন, কিন্তু বুদ্ধির বদলে পাগলামিতেই ছিলেন বিখ্যাত!
রাজা মানেই গাম্ভীর্য, রাজনীতি আর প্রজ্ঞার প্রতীক—এটাই স্বাভাবিক ধারণা। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু রাজার নাম লেখা আছে, যাঁদের কাজকর্ম শুনলে মনে হবে, তাঁরা হয় পাগল ছিলেন, নয়তো নিছক বিনোদনের খোরাক। চলুন, দেখা যাক ইতিহাসের সবচেয়ে পাগলাটে ১০ জন রাজার কথা।
১. রোমান সম্রাট ক্যালিগুলা (Caligula)
রোমের চতুর্থ সম্রাট ক্যালিগুলা এতটাই পাগল ছিলেন যে নিজের ঘোড়াকে সিনেটর বানাতে চেয়েছিলেন। বলা হয়, তিনি একবার সৈন্যদের সমুদ্রে যুদ্ধ করতে পাঠান—শত্রু? সমুদ্রের ঢেউ!
২. রাজা লুডউইগ II (Ludwig II of Bavaria)
জার্মানির এই রাজা ছিলেন এক ধরণের রূপকথার রাজা। বাস্তবতা ছেড়ে তিনি বাস করতেন নিজের কল্পনার জগতে। গড়েছিলেন বিশাল বিশাল প্রাসাদ, যেমন নিওয়াশভানস্টেইন ক্যাসেল, যা ডিজনিল্যান্ডের অনুপ্রেরণাও!
৩. রাজা চার্লস VI (ফ্রান্স)
চার্লস বিশ্বাস করতেন তিনি কাচের তৈরি, কেউ ছুঁলেই তিনি ভেঙে যাবেন। তাই তিনি সবসময় তার শরীরে লোহার দড়ি বেঁধে রাখতেন, যেন কেউ ভুল করে ধাক্কা না দেয়!
৪. রাজা জর্জ III (ইংল্যান্ড)
তিনি আমেরিকান উপনিবেশ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং এক সময় নিজেকে বিশ্বাস করতেন—তিনি গাছের সঙ্গে কথা বলতে পারেন! তাঁর মানসিক অসুস্থতা ইতিহাসে “Mad King George” নামে পরিচিত।
৫. সম্রাট নেরো (Nero)
রোম যখন আগুনে পুড়ছিল, তখন নেরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন—এমন কাহিনি ইতিহাসে বিখ্যাত। তিনি নিজের মায়ের হত্যাও করেছিলেন এবং রোমানদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছেন।
৬. ইব্রাহিম দ্য ম্যাড (অটোমান সাম্রাজ্য)
অটোমান সুলতান ইব্রাহিম ছিলেন এক কথায় ‘পাগলা’। একবার তিনি ২৮০ জন হেরেম নারীকে বস্তায় ভরে পানিতে ডুবিয়ে মারেন, কারণ এক জ্যোতিষী বলেছিলেন, এর মধ্যে কেউ তাঁকে হত্যা করতে পারে।
৭. রাজা এরিক XIV (সুইডেন)
এরিক সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এতটাই যে, যেকোনো উপদেষ্টাকে তিনি হঠাৎ করেই খুন করে ফেলতেন। তিনি একবার একটি পার্টিতে বিষ মিশিয়ে দেন, যাতে সব অতিথি মারা যান!
৮. চীন সম্রাট ঝেংডে (Zhengde Emperor)
ঝেংডে সাম্রাজ্য শাসনের চেয়ে নাটক করতে বেশি পছন্দ করতেন। নিজেকে “জেনারেল জু” নামে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন। তার প্রাসাদ ছিল ভুয়া অফিস আর পুতুল কর্মচারীতে ভরা।
৯. রাজা সিগিসমুন্ড (হাঙ্গেরি)
তিনি বিশ্বাস করতেন তিনিই ঈশ্বরের দূত, এবং যেকোনো নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বৈধ। ফলাফল, প্রাসাদে ‘ধর্মীয়’ যৌন উদযাপনের আয়োজন চলত বছরজুড়ে।
১০. রাজা রানা বাহাদুর শাহ (নেপাল)
নেপালের এই রাজা নিজের মৃত্যুর পর স্ত্রীকে সতী হতে বাধ্য করেন। পরে তার পুত্র তাকে হত্যা করলে রাজপ্রাসাদেই ঘটে গণহত্যা!
শেষ কথা: পাগলামির রাজনীতি ভয়ংকর হয়—এই রাজারাই তার প্রমাণ। এক সময় জনগণের নিয়তি ছিল এদের হাতে বন্দী। ইতিহাস আমাদের শেখায়, ক্ষমতা যখন পাগলামির হাতে পড়ে, তখন রাজপ্রাসাদও হয়ে ওঠে মানসিক হাসপাতালের বিকল্প!






