রূপগঞ্জে টায়ার-কেরোসিন-কেমিক্যালে তৈরি হচ্ছিল ‘দামী’ মবিল

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই দেশের বাজারে প্রায় ৫০ শতাংশ ভেজাল মবিল সরবরাহ করছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দুটি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স ঢাকা লুব অয়েল লিমিটেড এবং মেসার্স অ্যারাবিয়ান এন্টারপ্রাইজ।

বুধবার (২১ মে) দুপুরে রূপগঞ্জের বানিয়াদী ও ওরগাঁও এলাকায় এ দুটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। বিএসটিআই-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানমের নেতৃত্বে, ডিএমপি পুলিশের সহায়তায় এবং বিএসটিআই প্রসিকিউটর মো. তারিকুল ইসলাম সুমন ও ফিল্ড অফিসার (সিএম) এর অংশগ্রহণে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে দেখা যায়, পুরাতন টায়ার, পোড়া মবিল, কেরোসিন, প্লাস্টিকের দানা ও একধরনের ‘রিফাইনিং মেডিসিন’ একত্রে হিট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল মবিল। এসব পদার্থ মিশিয়ে বিভিন্ন ‘গ্রেডে’ মবিল তৈরি করে ড্রামে ভরে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, নামী দামী ব্র্যান্ডের মোড়কে।

সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের “ব্যবহৃত লুব্রিকেন্ট অয়েল রি-রিফাইনিং প্ল্যান্ট নীতিমালা” অনুসরণ না করেই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্স বা বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স কিছুই না থাকলেও, শুধু ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ভেজাল কারখানা।

অভিযানে মেসার্স ঢাকা লুব অয়েল লিমিটেড প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই লাইসেন্স ব্যতীত ইঞ্জিন অয়েল বিক্রি ও বিতরণের অপরাধে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। অপরদিকে, মেসার্স অ্যারাবিয়ান এন্টারপ্রাইজ-এ অভিযান চলাকালে মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেন ম্যাজিস্ট্রেট।

এই ভেজাল মবিল ব্যবহারে যানবাহনের ইঞ্জিন যেমন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—যে কোনো মুহূর্তে এসব মবিলের কারণে গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই কারখানার উৎপাদিত ভেজাল মবিল ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

রূপগঞ্জে টায়ার-কেরোসিন-কেমিক্যালে তৈরি হচ্ছিল ‘দামী’ মবিল

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই দেশের বাজারে প্রায় ৫০ শতাংশ ভেজাল মবিল সরবরাহ করছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দুটি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স ঢাকা লুব অয়েল লিমিটেড এবং মেসার্স অ্যারাবিয়ান এন্টারপ্রাইজ।

বুধবার (২১ মে) দুপুরে রূপগঞ্জের বানিয়াদী ও ওরগাঁও এলাকায় এ দুটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। বিএসটিআই-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানমের নেতৃত্বে, ডিএমপি পুলিশের সহায়তায় এবং বিএসটিআই প্রসিকিউটর মো. তারিকুল ইসলাম সুমন ও ফিল্ড অফিসার (সিএম) এর অংশগ্রহণে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে দেখা যায়, পুরাতন টায়ার, পোড়া মবিল, কেরোসিন, প্লাস্টিকের দানা ও একধরনের ‘রিফাইনিং মেডিসিন’ একত্রে হিট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল মবিল। এসব পদার্থ মিশিয়ে বিভিন্ন ‘গ্রেডে’ মবিল তৈরি করে ড্রামে ভরে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, নামী দামী ব্র্যান্ডের মোড়কে।

সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের “ব্যবহৃত লুব্রিকেন্ট অয়েল রি-রিফাইনিং প্ল্যান্ট নীতিমালা” অনুসরণ না করেই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্স বা বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স কিছুই না থাকলেও, শুধু ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ভেজাল কারখানা।

অভিযানে মেসার্স ঢাকা লুব অয়েল লিমিটেড প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই লাইসেন্স ব্যতীত ইঞ্জিন অয়েল বিক্রি ও বিতরণের অপরাধে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। অপরদিকে, মেসার্স অ্যারাবিয়ান এন্টারপ্রাইজ-এ অভিযান চলাকালে মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেন ম্যাজিস্ট্রেট।

এই ভেজাল মবিল ব্যবহারে যানবাহনের ইঞ্জিন যেমন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—যে কোনো মুহূর্তে এসব মবিলের কারণে গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই কারখানার উৎপাদিত ভেজাল মবিল ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।