নিয়ম ভেঙে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

প্রকাশ :

ছবি: রয়টার্স

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রোববার (৩১ মার্চ) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ নিয়ে রসিকতা করছেন না, বরং বিষয়টি তার ভাবনায় রয়েছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বা কৌশল উল্লেখ করেননি, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে এটি সম্ভব হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি টানা বা বিরতি দিয়ে দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারবেন না। ১৯৫১ সালে এই সংশোধনী গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সীমিত করা হয়। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তিনি এই বিধিনিষেধ অতিক্রম করার পথ খুঁজছেন।

ট্রাম্প বলেন, “কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে এটি সম্ভব হতে পারে,” তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো কৌশল ব্যাখ্যা করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প ও তার দল এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আইনি ও সাংবিধানিক দিক খতিয়ে দেখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মাত্র একজন প্রেসিডেন্ট তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন—ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট। তিনি ১৯৩৩ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন, যা ১৪০ বছরের রীতিকে ভেঙে দিয়েছিল। পরে ১৯৫১ সালে সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ দুইবারের মধ্যে সীমিত করা হয়।

ট্রাম্প যদি তৃতীয়বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে তাকে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, এটি আইনত অসম্ভব। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদি কংগ্রেসের অনুমোদনে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে নিয়ম পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এই প্রক্রিয়া সহজ নয়। কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন ছাড়া সংবিধান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এছাড়া, অধিকাংশ আমেরিকান ভোটারও দুই মেয়াদের নিয়ম পরিবর্তনের পক্ষে নন বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও তার দল ২০২৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উপায় খুঁজছে। তাদের কৌশল হতে পারে—ট্রাম্পকে কোনো নতুন ধরনের রাজনৈতিক পদে আনা, বা কোনো বিকল্প আইনি ব্যাখ্যা খুঁজে বের করা, যার মাধ্যমে তিনি আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

এছাড়া, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি তার প্রভাব বজায় রাখতে চান, তাহলে তিনি ভবিষ্যতে রিপাবলিকান পার্টির অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করে পরোক্ষভাবে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতে পারেন।

ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনার বিষয়টি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও, অনেকে মনে করছেন এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতারা একে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং তারা বলছেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউই প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, তবে এটি যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ট্রাম্প এবং তার সমর্থকরা ভবিষ্যতে কী কৌশল গ্রহণ করেন, তা দেখার জন্য রাজনৈতিক মহল এখন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

নিয়ম ভেঙে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

প্রকাশ :

রয়টার্স

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রোববার (৩১ মার্চ) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ নিয়ে রসিকতা করছেন না, বরং বিষয়টি তার ভাবনায় রয়েছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বা কৌশল উল্লেখ করেননি, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে এটি সম্ভব হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি টানা বা বিরতি দিয়ে দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারবেন না। ১৯৫১ সালে এই সংশোধনী গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সীমিত করা হয়। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তিনি এই বিধিনিষেধ অতিক্রম করার পথ খুঁজছেন।

ট্রাম্প বলেন, “কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে এটি সম্ভব হতে পারে,” তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো কৌশল ব্যাখ্যা করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প ও তার দল এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আইনি ও সাংবিধানিক দিক খতিয়ে দেখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মাত্র একজন প্রেসিডেন্ট তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন—ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট। তিনি ১৯৩৩ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন, যা ১৪০ বছরের রীতিকে ভেঙে দিয়েছিল। পরে ১৯৫১ সালে সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ দুইবারের মধ্যে সীমিত করা হয়।

ট্রাম্প যদি তৃতীয়বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে তাকে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, এটি আইনত অসম্ভব। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদি কংগ্রেসের অনুমোদনে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে নিয়ম পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এই প্রক্রিয়া সহজ নয়। কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন ছাড়া সংবিধান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এছাড়া, অধিকাংশ আমেরিকান ভোটারও দুই মেয়াদের নিয়ম পরিবর্তনের পক্ষে নন বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও তার দল ২০২৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উপায় খুঁজছে। তাদের কৌশল হতে পারে—ট্রাম্পকে কোনো নতুন ধরনের রাজনৈতিক পদে আনা, বা কোনো বিকল্প আইনি ব্যাখ্যা খুঁজে বের করা, যার মাধ্যমে তিনি আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

এছাড়া, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি তার প্রভাব বজায় রাখতে চান, তাহলে তিনি ভবিষ্যতে রিপাবলিকান পার্টির অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করে পরোক্ষভাবে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতে পারেন।

ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনার বিষয়টি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও, অনেকে মনে করছেন এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতারা একে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং তারা বলছেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউই প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, তবে এটি যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ট্রাম্প এবং তার সমর্থকরা ভবিষ্যতে কী কৌশল গ্রহণ করেন, তা দেখার জন্য রাজনৈতিক মহল এখন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।